প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অদ্ভুত আহ্বানে চীনসহ অন্যান্য দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসার কথা বলেছেন। ট্রাম্পের যুক্তি হলো, যেহেতু চীন এই করিডোর দিয়ে আসা জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তাই পাহারাদারির খরচও তাদেরই বহন করা উচিত। বিশ্লেষকরা একে দেখছেন যুদ্ধের নেতৃত্ব নিজেদের হাতে রেখে অস্থিরতার ভার অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার এক কৌশল হিসেবে।
বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কেনা এবং সামরিক প্রশিক্ষণের বিনিময়ে আরব দেশগুলো নিজেদের বন্দর ও আকাশসীমা পেন্টাগনের হাতে তুলে দিয়েছিল। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, সেই রাডার নেটওয়ার্ক এবং বিমান ঘাঁটিগুলো সার্বভৌম রাষ্ট্রের সম্পদ না হয়ে বরং একটি বিশাল যুদ্ধযন্ত্রের অংশে পরিণত হয়েছে। যখনই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়ে, তখনই এই রাষ্ট্রগুলো নিজেদের অস্তিত্বকে ঝুঁকির মুখে খুঁজে পায়।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ প্রশ্ন তুলেছেন, মিনাবে বালিকা বিদ্যালয়ে হামলার পর কেন কোনো নিন্দা জানানো হয়নি। এই নীরবতা প্রমাণ করে যে, তথাকথিত সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের আড়ালে আরব ভূখণ্ডগুলো এখন মার্কিন আধিপত্য ও ইসরায়েলি আঞ্চলিক সংহতির কাঠামোর মধ্যে বন্দি হয়ে পড়েছে। তারা এখন নিরপেক্ষ কূটনৈতিক শক্তির বদলে সাম্রাজ্যবাদী ক্ষমতার সহযোগী অবকাঠামোতে পরিণত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানের এই পরিস্থিতি কোনো নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার জন্ম দিচ্ছে না, বরং পুরনো সাম্রাজ্যবাদী কাঠামোরই নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। যেখানে অন্য দেশের ভূখণ্ডে অশান্তির আগুন জ্বেলে নিজেদের শক্তির জানান দেওয়া হয়।
অবশেষে প্রশ্ন উঠেছে, আরব দেশগুলো কি এই নিরাপত্তার মায়াজাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে, নাকি নিজেদের সার্বভৌমত্ব চিরতরে বিসর্জন দেবে?
0 Comments