ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে ইরান এবং তার মিত্র গোষ্ঠীগুলো। রাতের অন্ধকার চিরে একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে পুরো গ্রিন জোন এলাকা, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক নতুন যুদ্ধের আশঙ্কার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
ইরাকের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তত তিনটি ড্রোন এবং চারটি রকেট দিয়ে এই সমন্বিত হামলা চালানো হয়। এর মধ্যে একটি ড্রোন সরাসরি মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণের ভেতরে আঘাত হানতে সক্ষম হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পরপরই দূতাবাস এলাকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিকট শব্দে আশপাশের এলাকা কেঁপে ওঠে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, মার্কিন দূতাবাসের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই ড্রোন হামলা আটকাতে ব্যর্থ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটি মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে চালানো সবচেয়ে তীব্র এবং সুপরিকল্পিত আক্রমণগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইরানপন্থী গোষ্ঠী 'ইসলামিক রেজিস্টেন্স ইন ইরাক' এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী:
- গত ২৪ ঘণ্টায় ইরাক ও আশপাশের অঞ্চলে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে অন্তত ২১ বার হামলা চালানো হয়েছে।
- মার্কিন সেনারা অবস্থান করছে এমন একটি হোটেল লক্ষ্য করেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
- ইরানের ওপর চালানো মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাব হিসেবেই এই আক্রমণগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে।
হামলার পর বাগদাদসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে মার্কিন গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপক জোরদার করা হয়েছে। গোষ্ঠীটি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ড ও আগ্রাসন বন্ধ না হবে, ততক্ষণ তাদের এই 'প্রতিরোধমূলক' হামলা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর এই সুসংগঠিত হামলা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতিকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে এবং পরিস্থিতি যেকোনো সময় আরও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
0 Comments