সংঘাতের শুরু থেকেই ইরানকে চাপে ফেলার চেষ্টা করলেও এখন নিজেই চরম চাপে পড়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের জাহাজে আর আক্রমণ করা হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অব্যাহত পাল্টা আঘাত এবং বিশ্ব রাজনীতিতে বন্ধুহীন হয়ে পড়ার কারণেই ট্রাম্প এই নমনীয় অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছেন।
এই সংকটে ওয়াশিংটন তাদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের কাছ থেকেও কোনো সাড়া পাচ্ছে না। ট্রাম্প যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এমনকি চীনের কাছেও সাহায্য চেয়েছিলেন। কিন্তু ন্যাটো জোটসহ কোনো শক্তিশালী দেশই এই যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহ দেখায়নি। বিশেষ করে জার্মানি, ফ্রান্স ও গ্রিস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা এই সংঘাতের অংশ হতে চায় না।
ইরানের ওপর হামলা ও পাল্টা হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০৫ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। হরমুজ প্রণালীতে ইরান অবরোধ আরোপ করার ফলে বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আমেরিকা ও ইসরাইলের হামলার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরান পাল্টা জবাব দেয় এবং মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলকে লক্ষ্য করে হামলা শুরু করে। হরমুজ প্রণালীতে ইতিমধ্যে প্রায় ২০টি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সামগ্রিকভাবে, ইরানকে দমন করতে গিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন আন্তর্জাতিক মহলে একঘরে হয়ে পড়েছেন। সামরিক ও কূটনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই কৌশল বদলে পরাজয় মেনে নেওয়া ছাড়া বর্তমানে হোয়াইট হাউসের সামনে আর কোনো সহজ পথ খোলা নেই।
0 Comments