মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। কোনো ধরনের আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই বাহরাইনের শেখ ঈসা এলাকায় অবস্থিত মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে এই হামলা চালানো হয়।
ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড করপস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা এই হামলায় মোট ২০টি আত্মঘাতী ড্রোন এবং ৩টি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ঘাঁটির প্রধান কমান্ডো ও সদর দপ্তর মুহূর্তের মধ্যে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এছাড়া জ্বালানি ট্যাঙ্কেও ড্রোনগুলো আঘাত হানায় সেখানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
আইআরজিসি এই হামলাকে তাদের 'সামরিক প্রতিশোধ' হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট হুশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, শত্রুরা এখন নিজ ঘরেও নিরাপদ নয়।
এই হামলার রেশ ছড়িয়ে পড়েছে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতেও। রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসেও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে এবং কাতার সীমান্তে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পর তেহরানের এই 'মরণকামড়' মধ্যপ্রাচ্যকে এক বড় ধরনের যুদ্ধের শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে।
যদিও বাহরাইন কর্তৃপক্ষ কিংবা পেন্টাগন থেকে এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি, তবে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘটনাকে চরম উত্তেজনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে। পুরো বিশ্ব এখন পরবর্তী পাল্টাপাল্টি আঘাতের আশঙ্কায় তাকিয়ে আছে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে।
0 Comments