মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনায় হামলার ঘটনায় নতুন এক কূটনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, এই হামলার পেছনে সরাসরি ইসরায়েলের হাত রয়েছে এবং এটি একটি 'ফলস ফ্ল্যাগ' অপারেশন।
মঙ্গলবার তেহরান ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। তার মতে, সাম্প্রতিক আরামকো হামলার নেপথ্যে ইসরায়েলের গোপন পরিকল্পনা কাজ করছে। ইরান এটিকে একটি 'ফলস ফ্ল্যাগ' বা ছদ্মবেশী অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেছে, যার উদ্দেশ্য হলো ইসরায়েলের নিজস্ব সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া এবং ইরানকে আঞ্চলিকভাবে কোণঠাসা করা।
ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো কখনোই তাদের লক্ষ্যবস্তুতে ছিল না। তাদের দাবি, তারা কেবল মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে থাকে। ইসরায়েল ইচ্ছা করেই সৌদি আরবের স্থাপনায় এই হামলা চালিয়েছে যাতে এর দায়ভার তেহরানের ওপর চাপানো যায়।
ইরানি গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে আরও জানানো হয়েছে যে, ইসরায়েলের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর। তেহরান সতর্ক করেছে যে, সেখানেও অনুরূপ হামলা চালিয়ে তার দায় ইরানের ওপর চাপানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে।
এখন পর্যন্ত ইরান কর্তৃক উত্থাপিত এই অভিযোগের বিষয়ে ইসরায়েল বা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আরামকো ইস্যুতে এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে।
0 Comments