টমাহক মিসাইল সংকট: মার্কিন সামরিক সক্ষমতা কি প্রশ্নের মুখে?


ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত 'অপারেশন এপিক ফিউরি' (Operation Epic Fury) সাময়িকভাবে সফল মনে হলেও, এটি পেন্টাগনের জন্য এক নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৪০০টি টমাহক ল্যান্ড অ্যাটাক মিসাইল নিক্ষেপ করে মার্কিন নৌবাহিনী এখন 'শূন্য শেল্ফ' (Empty Rack) সংকটের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছে।

সামরিক বিশ্লেষক হ্যারিসন ক্যাসের মতে, গত তিন দিনে যে পরিমাণ টমাহক মিসাইল খরচ করা হয়েছে, তা তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রের কারখানাগুলোর অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বছরে মাত্র ৭২ থেকে ৯০টি টমাহক উৎপাদন করতে সক্ষম। অর্থাৎ, তিন দিনেই তারা তাদের মোট মজুদের প্রায় ১০ শতাংশ শেষ করে ফেলেছে।

সলিড রকেট মোটরের সরবরাহ চেইন অত্যন্ত দুর্বল এবং এটি তৈরি করে হাতেগোনা কিছু সাব-কন্ট্রাক্টর। মিসাইলটিতে ব্যবহৃত হাজার হাজার সেন্সর এবং প্রিসেশন কম্পোনেন্ট নির্দিষ্ট কিছু উৎস থেকে আসে, যা চাইলেই দ্রুত বাড়ানো সম্ভব নয়। এর প্রোডাকশন লাইনগুলো বর্তমানে 'কোল্ড' বা স্থবির অবস্থায় আছে, যা রাতারাতি সচল করা প্রায় অসম্ভব।

মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে আমেরিকা কি প্রশান্ত মহাসাগরে চীনের জন্য পথ প্রশস্ত করে দিচ্ছে? এই প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। যদি চীন এই মুহূর্তে তাইওয়ান আক্রমণ করে, তবে মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষে একই তীব্রতায় পাল্টা আক্রমণ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।

এই পরিস্থিতিকে বিশেষজ্ঞরা 'টমাহক ট্র্যাপ' (Tomahawk Trap) বলে অভিহিত করছেন। জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো মিত্র দেশগুলোও এখন উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে, কারণ তাদের টমাহক কেনার ক্রয়াদেশগুলো দীর্ঘসূত্রিতার কবলে পড়তে পারে।

'অপারেশন এপিক ফিউরি' ইরানের প্রতিরক্ষা দেয়াল ভাঙতে সফল হলেও মার্কিন সামরিক শিল্পের সীমাবদ্ধতাকে প্রকাশ করে দিয়েছে। তাইওয়ানকে রক্ষা করার যে প্রতিশ্রুতি পেন্টাগন দিয়ে আসছে, মজুদের এই সংকট সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষাকে এক বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

Post a Comment

0 Comments