ইসরাইলের ১০০ শহরে একযোগে সাইরেন, বিপর্যয়ের মুখে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা
March 31, 2026
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা এক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর নজিরবিহীন সমন্বিত হামলায় লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে ইসরাইলের নিরাপত্তা বলয়। গত রবিবার রাতে ইসরাইলের ১০০টিরও বেশি শহরে একযোগে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা হচ্ছে ।
লেবাননের প্রতিরোধ গোষ্ঠীর হামলায় ইতিমধ্যে ইসরাইলের প্রায় ১০০টি 'মার্কাবা' ট্যাংক ধ্বংস হয়েছে। যুদ্ধের পাঁচ সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই ইসরাইল সৈন্য সংকটে ভুগছে। রবিবার রাতের হামলায় উত্তর গ্যালিলি, বৃহত্তর তেল আবিব, জেরুজালেম, পশ্চিম তীরের বসতি এবং জর্ডান উপত্যকাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ভয়ে লাখ লাখ ইসরাইলি নাগরিক নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারগুলোতে ভিড় জমায়।
ইসরাইল তাদের 'আয়রন ডোম', 'অ্যারো' এবং 'ডেভিডস স্লিং'-এর মতো উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে হামলা ঠেকানোর দাবি করলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ইরানের নিখুঁত নিশানায় ইসরাইলের দামী রাডার ব্যবস্থাগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ছে। সমন্বিত এই হামলায় বেশ কিছু স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন সত্ত্বেও ইসরাইলকে পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারছে না আমেরিকা। এই সুযোগে ইরান এবং তার আঞ্চলিক সহযোগীরা ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, প্রতিশোধমূলক এই হামলা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে লেবাননের গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো ইসরাইলের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি অকেজো করে দেওয়া।
দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো নির্যাতনের পাল্টা জবাব হিসেবে এই হামলাকে দেখা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
0 Comments