ইসরায়েলের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হাইফা রিফাইনারিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা


মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এক নতুন মোড় নিয়েছে। ইসরায়েলের অর্থনীতির 'হৃদপিণ্ড' হিসেবে পরিচিত হাইফা শিল্পাঞ্চলের তেল শোধনাগারে সরাসরি আঘাত হেনেছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র। দিনের আলোতে ঘটা এই ভয়াবহ হামলায় দাউ দাউ করে জ্বলছে তেল শোধনাগার এবং ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে পুরো এলাকা।

ইরানের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠেছে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী হাইফা। এবার ইরানের প্রধান নিশানায় ছিল ইসরায়েলের জ্বালানি অবকাঠামোর অন্যতম কেন্দ্র 'বাজান তেল শোধনাগার'। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত অথবা এর ধ্বংসাবশেষ পতনের ফলে একটি পেট্রোল ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটে এবং ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়

ইসরায়েল নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অজেয় দাবি করলেও, ইরান কৌশলগতভাবে তাদের ব্যস্ত রেখে এই গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। সরাসরি বড় ধ্বংসযজ্ঞের চেয়েও বড় বিষয় হলো বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং জ্বালানি উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বারবার একই ধরনের স্থাপনাকে টার্গেট করার মাধ্যমে ইসরায়েলের সামরিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ পাচ্ছে

ইতিপূর্বে রামাত হুবাব শিল্পাঞ্চলেও একই ধরনের হামলা চালানো হয়েছিল, যেখানে বিপদজনক রাসায়নিক লিক হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বর্তমানে 'স্মার্ট স্ট্রাইক' কৌশল গ্রহণ করেছে। তারা সরাসরি বিশাল ধ্বংসযজ্ঞ না চালিয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্রমাগত ব্যস্ত রাখছে এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে চাপ সৃষ্টি করে জনমনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে ইসরায়েলকে প্রতিনিয়ত একটি 'ডিফেন্সিভ' বা আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে ইরান

বর্তমানে একাধিক ফ্রন্টে যুদ্ধ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার চাপে ইসরায়েল এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। ইরানের এই পরিকল্পিত হামলা প্রমাণ করছে যে, তারা কেবল জবাব দিচ্ছে না বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে

Post a Comment

0 Comments