মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন কমান্ডো মোতায়েন: ইরানের কৌশলগত কেন্দ্রে হামলার আশঙ্কা


ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনা এখন আর কেবল কূটনৈতিক আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা রণসজ্জার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। নিউইয়র্ক টাইমস ও আনাদোলু এজেন্সির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকশ চৌকস কমান্ডো ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছেন, যা এক মহাযুদ্ধের পদধ্বনি বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা।

পেন্টাগন তাদের অন্যতম শক্তিশালী বাহিনী ‘আর্মি রেঞ্জার্স’ এবং ‘নেভি সিল’-এর মতো বিশেষ বাহিনীকে এই মিশনে পাঠিয়েছে। শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই কমান্ডোরা বর্তমানে ওই অঞ্চলে অবস্থান করছেন এবং যেকোনো মুহূর্তে অভিযানে নামার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হতে পারে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো, যার মধ্যে রয়েছে:

  • ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্র: ইরানের পরমাণু কর্মসূচির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
  • হরমুজ প্রণালী: কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ নিয়ন্ত্রণে রাখা।
  • খারগ দ্বীপ: ইরানের প্রধান তেল হাব হিসেবে পরিচিত এই দ্বীপটি দখল করে দেশটির অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি, যা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অন্তত ১০ হাজার বেশি। এই বিশাল বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ৫ হাজার নৌসেনা ও মেরিন সেনা। এছাড়া, আকাশপথে শক্তি বাড়াতে পেন্টাগন ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্রায় ২ হাজার প্যারাট্রুপার সেনাকে ইরানে আঘাত হানার মতো দূরত্বে মোতায়েন করেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান জুড়ে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত ১,৩৪০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর মৃত্যু। শীর্ষ নেতৃত্বের এই শূন্যতাকে কাজে লাগিয়ে পশ্চিমারা ইরানকে এক চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেওয়ার সুযোগ খুঁজছে।

রণক্ষেত্রের এই উত্তাপ সরাসরি বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হতো, যা বর্তমানে পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়েছে, যার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ মন্দার মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments