ইরানের বিধ্বংসী সামরিক অভিযান 'ট্রু প্রমিস ফোর': মার্কিন ও ইসরাইলি ঘাঁটিতে নজিরবিহীন হামলা


মার্কিন-ইসরাইল আগ্রাসনের জবাবে ইরান শুরু করেছে তাদের চতুর্থ পর্যায়ের বৃহৎ সামরিক অভিযান 'ট্রু প্রমিস ফোর'। এই অভিযানের ৫৭তম ঢেউয়ে ইরান কেবল ইসরাইলি ভূখণ্ডই নয়, বরং কাতারে অবস্থিত মধ্যপ্রাচ্যের বৃহত্তম মার্কিন সামরিক ঘাঁটি 'আল-উদাইদ'-এ নজিরবিহীন হামলা চালিয়েছে।

ভোররাতে শুরু হওয়া এই অভিযানে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার থেকে ফাত্তাহ, ফাতেহ, হাইবারশেকান এবং কিয়ামের মতো অত্যাধুনিক মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ঝাঁকে ঝাঁকে আত্মঘাতী ড্রোন (Loitering Munition) ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

ইরান একযোগে ইসরাইলের সাইবার প্রযুক্তি কেন্দ্র এবং বিখ্যাত 'রাফায়েল' অস্ত্র উৎপাদন কারখানায় আঘাত হেনেছে। ইরানি সেনাবাহিনীর দাবি, ড্রোন হামলার মাধ্যমে তারা ইসরাইলের কমান্ড ও কন্ট্রোল সিস্টেমের স্নায়ুকেন্দ্রগুলোকে অচল করে দিয়েছে।

কাতারের আল-উদাইদ বিমান ঘাঁটি, যা ২১টি দেশে মার্কিন বিমান অপারেশনের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, সেখানে ইরানের জুলফিকার এবং কিয়াম ব্যালিস্টিক মিজাইল দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা একে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের ওপর ইরানের পক্ষ থেকে এক চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি হিসেবে দেখছেন।

ইরান এই ৫৭তম ঢেউ উৎসর্গ করেছে 'মোস্তফা' নামের মাত্র তিন দিন বয়সী এক শিশুর স্মরণে। গত সোমবার ইরানের আরাক শহরের কাছে একটি গ্রামীণ বাড়িতে মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় শিশুটি তার মা, দুই বছর বয়সী বোন এবং দাদীর সাথে নিহত হয়। বিবৃতিতে মোস্তফাকে এই যুদ্ধের কনিষ্ঠতম শহীদ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো যখন এই নৃশংসতার মুখে নীরব, তখন এই নিষ্পাপ শিশুর রক্তই তাদের প্রতিরোধের আগুনকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই লড়াই কেবল ভূখণ্ড রক্ষার নয়, বরং মার্কিন-ইসরাইলি জোটের অন্ধ আগ্রাসনের যোগ্য জবাব।

বর্তমানে একের পর এক ড্রোনের ঢেউ দখলকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে থাকা বিভিন্ন স্থাপনায় আছড়ে পড়ছে, যা গত কয়েক দিনে আরও তীব্র হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments