দেশে বাড়ছে পৈশাচিক বর্বরতা: যুদ্ধের ডামাডোলে আড়ালে পড়ে যাচ্ছে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড


বিশ্বজুড়ে যখন ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে টানটান উত্তেজনা, ঠিক সেই সময়ে বাংলাদেশে একের পর এক ঘটে যাওয়া পৈশাচিক ও নৃশংস ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাগুলো জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কিশোরী থেকে শুরু করে স্কুল শিক্ষিকা ও শিশু—কেউই এই বর্বরতা থেকে রেহাই পায়নি।

  • নরসিংদীতে বাবার সামনে থেকে তুলে নিয়ে হত্যা: গত ২৫ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর মাধবীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তার বাবার সামনে থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়। এর ১৫ দিন আগে নূরা নামের এক যুবকের নেতৃত্বে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। গ্রাম্য সালিশে বিচার না পেয়ে উল্টো ক্ষুব্ধ হয়ে ঘাতকরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।
  • পাবনায় দাদিকে হত্যা ও নাতনিকে ধর্ষণ: ২৭ ফেব্রুয়ারি পাবনার ঈশ্বরদীতে জামিলা নামের এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় শরিফুল নামের এক যুবক। বাধা দেওয়ায় কিশোরীর দাদিকে হত্যা করে সে। পরে ওই কিশোরীকে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে অচেতন অবস্থায় পাশের গমক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়।
  • গাইবান্ধায় স্কুল শিক্ষিকা খুন: ২৮ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে শামসুন্নাহার রুমা নামের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকার হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, তাকেও ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার দ্বিতীয় স্বামীকে আটক করা হয়েছে।
  • সীতাকুণ্ডে ৭ বছরের শিশুর গলা কাটা মরদেহ: সর্বশেষ ১ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর গলা কেটে জঙ্গলে ফেলে রাখা হয়। শ্বাসনালি কাটা অবস্থায় শিশুটি কিছুক্ষণ বেঁচে থাকলেও পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
প্রতিটি ঘটনার ধরন প্রায় একই—প্রথমে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে আলামত মুছে ফেলতে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে সঠিক বিচার না পাওয়া বা প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ায় এই ধরণের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটছে।

দেশবাসী ও সচেতন মহল এই প্রতিটি ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদের ভিড়ে যেন এই অভ্যন্তরীণ অপরাধগুলো ঢাকা পড়ে না যায়। 

Post a Comment

0 Comments