সরকারি হাসপাতালে তালা ঝুলিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখছেন চিকিৎসকরা; চরম ভোগান্তিতে রোগীরা


সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টার মধ্যে হাসপাতালে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসকদের না পেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা।
বুধবার সকালে হাসপাতালের শিশু বিভাগে সরেজমিনে দেখা যায়, ডা. রাজেশ মজুমদার, ডা. কনক জ্যোতি মন্ডল, ডা. রেজাউল কবির এবং ডা. সুস্মিতা শারমিনের চেম্বারগুলোতে তালা ঝুলছে। সকাল ১০টা বেজে গেলেও কোনো চিকিৎসকের দেখা মেলেনি। অথচ রোগীরা টিকিট কেটে দীর্ঘক্ষণ ধরে তাদের জন্য অপেক্ষা করছেন।
সরকারি হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকলেও ডা. রাজেশ মজুমদারকে পাওয়া যায় তার ব্যক্তিগত চেম্বার 'সিটি আধুনিক হাসপাতালে'। সেখানে তিনি নিয়মিত রোগী দেখছেন। সংবাদকর্মীরা সেখানে গিয়ে তার সাথে কথা বললে তিনি অসংলগ্ন আচরণ করেন। ডা. রাজেশ মজুমদার দাবি করেন তিনি অসুস্থ এবং তার রক্তচাপ (প্রেসার) বেড়ে গেছে। তবে অসুস্থতা সত্ত্বেও কেন তিনি সরকারি হাসপাতালে না গিয়ে প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী দেখছেন, এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।
সরকারি হাসপাতালে বায়োমেট্রিক হাজিরা (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) দিয়ে চিকিৎসকরা ব্যক্তিগত ক্লিনিকে চলে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ডা. রাজেশ মজুমদার নিজেই স্বীকার করেছেন যে, তার এই কাজ করা সঠিক নয়।
হাসপাতালে আসা ভুক্তভোগী রোগীরা জানান, চিকিৎসকদের চেম্বারে না পেয়ে তারা চরম অসহায়ত্বের মধ্যে পড়েছেন। নার্স বা অন্যান্য স্টাফদের কাছে জানতে চাইলেও তারা সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারছেন না। অনেকে ছোট শিশুদের নিয়ে সকাল থেকে অপেক্ষা করে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ৮টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থান করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের এই চিত্র চিকিৎসকদের দায়িত্বহীনতার চরম বহিঃপ্রকাশ।

Post a Comment

0 Comments