রাজধানীতে প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পেটালেন দারোয়ান ও তার স্ত্রী


রাজধানীর আদাবরে অবস্থিত বেগম নূরজাহান মেমোরিয়াল গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের জায়গায় অবৈধভাবে থাকা নিয়ে বিরোধের জেরে দারোয়ান ধলু শিকদার ও তার স্ত্রী মিলে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলাউদ্দিনকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী শিক্ষকের বর্ণনা মতে, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে প্রধান শিক্ষক যখন বাসায় ফিরছিলেন, তখন ধলু শিকদার ও তার স্ত্রী তার পথরোধ করেন। এক পর্যায়ে তারা প্রধান শিক্ষকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শী অন্য এক দারোয়ান মনির জানান, ধলুর স্ত্রী শিক্ষককে দুই হাতে জাপটে ধরে রেখেছিলেন এবং ধলু তাকে এলোপাথাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে থাকেন। মারধরের এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষকের পরিহিত জামা ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং তিনি রক্তাক্ত জখম হন।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ধলু শিকদার প্রায় ২০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের জায়গায় বসবাস করছেন। প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজনে তাকে ওই জায়গা ছেড়ে দিতে বলা হলেও তিনি তা মানছিলেন না। এ নিয়ে দফায় দফায় নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি জায়গা ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান এবং উল্টো চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন। এই বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে প্রধান শিক্ষকের ওপর এই জঘন্য হামলা চালানো হয়।

একজন শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার এই ঘটনায় বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা একে ‘বর্বর নির্যাতন’ হিসেবে অভিহিত করে এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষকরা জানান, প্রতিষ্ঠান প্রধানের ওপর এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

আদাবর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসআই ইয়ামিন সরকার ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে রক্তাক্ত ও জীর্ণ অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ধলু শিকদারকে ইতিমধ্যে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ভয়াবহ এই হামলার পর আহত প্রধান শিক্ষককে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকায় এ নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments