মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ফাটল: ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে আমেরিকা


ইরানের উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি এবং হাইপারসোনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে বিশ্বসেরা সামরিক শক্তির দাবিদার আমেরিকা এখন চরম বাস্তবতার মুখোমুখি। সম্প্রতি ক্যাপিটাল হিলে এক রুদ্ধদ্বার ব্রিফিংয়ে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে, ইরানের সব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা বর্তমানে প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে ইরানের তৈরি 'শাহেদ' ড্রোন। এই ড্রোনগুলো অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় এবং ধীরগতিতে ওড়ে, যা রাডারের নজরদারি এড়িয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুতগতিতে এলেও রাডারে ধরা পড়ে, কিন্তু শাহেদ ড্রোনের এই বিশেষ কৌশল মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিচ্ছে।

মার্কিন সিনেটরদের মতে, এটি এখন একটি গাণিতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ইরান বিপুল সংখ্যায় সস্তা শাহেদ ড্রোন তৈরি করে একসঙ্গে শত শত উৎক্ষেপণ করছে (স্যাচুরেশন অ্যাটাক কৌশল)। অন্যদিকে, এই ড্রোনগুলো ধ্বংস করতে আমেরিকাকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার মূল্যের ইন্টারসেপ্টর মিসাইল খরচ করতে হচ্ছে, যার সংখ্যাও সীমিত।

শুধু শাহেদ ড্রোনই নয়, ইরানের 'ফাত্তাহ-২' হাইপারসোনিক গ্লাইড ভেহিকল আমেরিকার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শব্দের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি গতির এই ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে, যা মার্কিন 'পেট্রিয়ট' বা ইসরায়েলের 'আয়রন ডোম' সিস্টেমকে সহজেই বিভ্রান্ত করছে।

ইরানের এই ধারাবাহিক হামলার মুখে পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং মিত্র রাষ্ট্রগুলো চরম চাপের মুখে রয়েছে। এমনকি উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন'-কেও লক্ষ্য করে ইরান হামলা চালাচ্ছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ডেনকেইনও স্বীকার করেছেন যে, ইরানের এই সামরিক সরঞ্জামগুলো প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর।

Post a Comment

0 Comments