ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহকারী অধ্যাপক রুনা সাদিয়া ইসলামকে তাঁর নিজ কার্যালয়ে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। আজ বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেলে বিভাগে ইফতার মাহফিলের প্রস্তুতি চলছিল। সহকারী অধ্যাপক রুনা সাদিয়া তাঁর ব্যক্তিগত কক্ষে অবস্থান করছিলেন। বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে তাঁর কক্ষ থেকে আর্তচিৎকার শুনতে পেয়ে কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা ছুটে যান।
রুমের দরজা বন্ধ থাকায় আনসার সদস্য ও শিক্ষার্থীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে শিক্ষিকা রুনাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ফজলুর রহমান নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মচারী এই হামলা চালিয়েছেন। তিনি আগে সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিলেন, তবে সম্প্রতি তাঁকে অন্য বিভাগে বদলি করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
উপস্থিত লোকজন রুমে ঢোকার পর দেখা যায়, অভিযুক্ত ফজলু নিজেও নিজের গলায় ছুরিকাঘাত করে আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন।
আহত অবস্থায় শিক্ষিকা রুনা সাদিয়াকে দ্রুত কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই কক্ষটি সিলগালা করে দিয়েছে। অভিযুক্ত ফজলু বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং পুলিশি পাহারায় আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এসপি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্রাইম সিন পরিদর্শন করেছেন।
এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
0 Comments