ইরানের অস্ত্রাগার কি অফুরন্ত? শত শত লঞ্চার ধ্বংসের পরও ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলার রহস্য


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরান ও ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের পক্ষ থেকে ইরানের অসংখ্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করার দাবি করা হলেও, ইরানের পক্ষ থেকে পাল্টা হামলার সক্ষমতা কীভাবে বজায় থাকছে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই শক্তির প্রধান উৎস তাদের বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় অস্ত্রের মজুদ। কয়েক দশক ধরে তারা নিজস্ব প্রযুক্তিতে স্বল্প, মধ্যম এবং দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরি করে আসছে। ইরানের পাহাড়ি অঞ্চলের গভীরে তৈরি করা হয়েছে শত শত ভূগর্ভস্থ টানেল বা 'ক্ষেপণাস্ত্র শহর', যা স্যাটেলাইট বা আকাশপথের নজরদারি থেকেও সুরক্ষিত। এসব ঘাঁটি থেকে খুব দ্রুত মোবাইল লঞ্চারের মাধ্যমে হামলা চালিয়ে আবার দ্রুত আত্মগোপন করা সম্ভব।

ইরানের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে দেখা হচ্ছে 'শহীদ-১৩৬' বা আত্মঘাতী ড্রোনকে। এই ড্রোনগুলো অত্যন্ত সাশ্রয়ী কিন্তু কার্যকর। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে ইরান একসাথে ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন নিক্ষেপ করে, যার ফলে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সামরিক সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, ইরান কেবল ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বাড়ায়নি, বরং সেগুলোর নিখুঁতভাবে আঘাত হানার সক্ষমতাও (Precision) অনেক উন্নত করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে এবং বর্তমান হোয়াইট হাউসের প্রশাসনের সময়েও ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর যে হামলাগুলো চালায়, তাতে কিছু লঞ্চার ধ্বংস হলেও ইরানের মূল উৎপাদন ব্যবস্থা এবং ছড়িয়ে থাকা মজুদের খুব সামান্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে বড় ধরনের পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা ইরান খুব কম সময়েই পুনরুদ্ধার করতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডারকে কেবল যুদ্ধের সরঞ্জাম হিসেবে নয়, বরং একটি বড় ধরণের রাজনৈতিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।


Post a Comment

0 Comments