ইসরায়েলের সাইবার কেন্দ্র ও অস্ত্র কারখানায় ইরানের ড্রোন হামলা: বিপর্যয়ের মুখে তেল আবিব


মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের রেশ ধরে এবার সরাসরি ইসরায়েলের 'হৃৎপিণ্ডে' আঘাত হেনেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যৌথ হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ সাইবার প্রযুক্তি কেন্দ্র এবং প্রধান অস্ত্র উৎপাদন কারখানাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে তেহরান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে চালানো এই ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই ইরানি সেনারা ইসরায়েলের পুলিশি সাইবার প্রযুক্তি কেন্দ্র এবং বিখ্যাত 'রাফায়েল' অস্ত্র উৎপাদন কমপ্লেক্সকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায়।

এই কারখানাটি ইসরায়েলি বাহিনীর জন্য গাইডেড অস্ত্র ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত আধুনিক প্রযুক্তি এবং আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরঞ্জাম সরবরাহ করে আসছিল।

ইরানি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এই হামলার ফলে রাফায়েল কমপ্লেক্সের কার্যক্রমে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে আয়রন ডোম এবং ড্রোন কেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহের নেটওয়ার্ক আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে উত্তর ইসরায়েলের নাহারিয়া এবং অন্যান্য উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহরগুলোতে সাইরেন বেজে ওঠে। মধ্যাঞ্চলে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের ক্লাস্টার মিউনিশনের আঘাতে একাধিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই হামলা ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতার ওপর এক বড় আঘাত। ইসরায়েলের গর্বের আয়রন ডোম (Iron Dome) এবং ডেভিড স্লিং (David’s Sling) এর মতো অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা সিস্টেমগুলোও সবক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না। যুদ্ধের এই পর্যায়ে এসে ইসরায়েলি ইন্টারসেপ্ট মিসাইলের তীব্র ঘাটতিও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান শুধুমাত্র প্রতিশোধ নয় বরং কৌশলগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। এই হামলা ইসরায়েলের জন্য কেবল একটি সামরিক ক্ষতি নয়, বরং একটি বড় ধরণের মানসিক ধাক্কা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments