ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর সুরক্ষিত প্রাসাদে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘটিত ভয়াবহ হামলার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে খামেনীর প্রোটোকল প্রধান মাজাহের হোসাইনের একটি গোপন অডিও ক্লিপ ফাঁস হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপ অনুযায়ী, সেদিন সকালে ইসরাইলি 'ব্লু স্প্যারো' মিসাইলের গর্জনে কেঁপে ওঠে পুরো প্রাসাদ কম্পাউন্ড। অন্তত তিনটি শক্তিশালী মিসাইল সরাসরি প্রাসাদের মূল অংশে আঘাত হানে। যে স্থানে বসে বৈঠক চলছিল, ঠিক সেখানেই প্রথম মিসাইলটি আঘাত হানে বলে অডিওতে জানানো হয়েছে।
এই হামলায় আলী খামেনীর পরিবারের বড় একটি অংশ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন:
- আলী খামেনীর স্ত্রী, কন্যা, জামাতা এবং নাতনি।
- মোস্তফা খামেনীর স্ত্রী মিস হাদ্দাদ।
- সামরিক প্রধান মোহাম্মদ সিরাজ (যাঁর মরদেহের কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি, কেবল কিছু মাংসপিণ্ড উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে)।
- খামেনীর জামাতা মিজবা আল হুদা বাঘিরি।
ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আলোচিত মোস্তফা খামেনী সেদিন মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছেন। অডিওতে বলা হয়েছে, বাবার সঙ্গে বৈঠকের মাঝেই বিশেষ এক প্রয়োজনে তিনি বাগানে গিয়েছিলেন। তিনি যখন সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠছিলেন, ঠিক তখনই ভবনটি ধসে পড়ে। মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তিনি প্রাণে বেঁচে যান।
হামলার পর থেকে মোস্তফা খামেনীকে আর জনসমুখে দেখা যায়নি। সরকারিভাবে তাঁকে সুস্থ দাবি করা হলেও ফাঁস হওয়া অডিও বলছে ভিন্ন কথা। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হামলায় তাঁর পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মোস্তফা খামেনী হয়তো আর বেঁচে নেই অথবা তিনি মারাত্মকভাবে বিকৃত হয়ে গেছেন। দীর্ঘ সময় তাঁর প্রকাশ্যে না আসা এই জল্পনাকে আরও জোরালো করছে।
তেহরানের সেই সুরক্ষিত প্রাসাদ আজ ধ্বংসস্তূপ আর শোকের মাতমে আচ্ছন্ন। এই হামলার ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে এক নতুন ও গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
0 Comments