উপদেষ্টার ‘গাড়ি বহরের’ জন্য প্রতিবেশীদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ: নিয়ম ভেঙে বিকল্প রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ


অন্তর্বর্তী সরকারের সদ্য বিদায় নেওয়া সাবেক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি রাস্তা থাকা সত্ত্বেও নিজ বাড়ির যাতায়াত সহজ করতে প্রতিবেশীদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করে একটি বিকল্প রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সরকারি নকশা লঙ্ঘন করে ১২ ফুটের রাস্তাটি করা হয়েছে ১৬ ফুটেরও বেশি প্রশস্ত।

মুন্সিগঞ্জের নিজ গ্রামে আদিলুর রহমানের বাড়ির সামনে একটি সরকারি রাস্তা আগে থেকেই বিদ্যমান ছিল। কিন্তু উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি বাড়ির ঠিক সামনে দিয়ে নতুন একটি পাকা রাস্তা নির্মাণ শুরু করেন। এলাকাবাসীর দাবি, শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত স্বার্থ এবং গাড়ি বহর সহজে ঢোকানোর জন্য এই রাস্তাটি করা হয়েছে।

রাস্তাটি নির্মাণ করতে গিয়ে পাশের বসতবাড়ি ও জায়গা দখল করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, ক্ষমতার দাপটে তাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিকে ‘খাস জমি’ দেখিয়ে রাতারাতি উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। এমনকি আদালতের স্থিতাবস্থা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসন উপদেষ্টার মন রক্ষায় ঘরবাড়ি ভেঙে রাস্তা প্রশস্ত করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এক বাসিন্দা জানান, "আমাদের বাড়িঘর ভেঙে রাস্তা নেওয়ায় তার বাজারে যেতে ২ মিনিট সময় বাঁচবে, অথচ এর জন্য আমাদের বসতভিটা হারাতে হলো।"

কাগজে-কলমে রাস্তাটি ১২ ফুট হওয়ার কথা থাকলেও সরেজমিনে তা ১৬ থেকে ১৮ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত পাওয়া গেছে। উপজেলা প্রকৌশলী জানান, উপদেষ্টার ‘অভিপ্রায়’ অনুযায়ী জেলা পর্যায় থেকে নকশা পরিবর্তন করে রাস্তার আকার বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ নিয়মের বাইরে। ঠিকাদার জানান, বারবার নকশা পরিবর্তনের ফলে তিনি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং উপদেষ্টাকে খুশি করতেই বারবার কাজ করতে হয়েছে।

নতুন রাস্তার পাশাপাশি খালের ওপর একটি সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রেও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, আদিলুর রহমান তার এক বাল্যবন্ধুর কারখানার সুবিধার্থে তড়িঘড়ি করে এক মাসের মধ্যে সেতুটি নির্মাণ করিয়ে দিয়েছেন।

মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) জানিয়েছেন, রাস্তাটি ১২ ফুটের জায়গায় ১৬ ফুট করার বিষয়টি তার জানা নেই এবং তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সাবেক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ক্ষমতা হারানোয় এখন এই প্রকল্পের সাথে জড়িত ঠিকাদার ও স্থানীয় কর্মকর্তারা বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতার মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন।

Post a Comment

0 Comments