সাতক্ষীরায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহার করে অত্যন্ত সুকৌশলে নকল সার বিক্রির একটি বড় সিন্ডিকেট ধরা পড়েছে। সাতক্ষীরা সদরের বালিথা গ্রামের কৃষক আইয়ুব আলী শহরের সুলতানপুর বাজারের একটি দোকান থেকে ১৩ হাজার টাকার পটাশ, ইউরিয়া ও টিএসপি সার কেনেন। জমিতে সার প্রয়োগের সময় সারের মান দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে তিনি কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানালে তারা সারের নমুনা যাচাই করে ভেজাল হওয়ার প্রাথমিক প্রমাণ পান।
কৃষক আইয়ুব আলীকে সাথে নিয়ে কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন ওই দোকানে অভিযান চালায়। অভিযানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সরকারি প্রতিষ্ঠান বিএডিসির আসল বস্তার ভেতরে নকল টিএসপি সার ভরে বিক্রি করা হচ্ছিল। দোকানের পেছনের গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে কয়েক ট্রাক নকল সার এবং সেগুলো তৈরির বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও উপকরণ উদ্ধার করা হয়। টিএসপি ছাড়াও জিংক, বোরনসহ বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির মোড়কে নকল সার তৈরি ও বাজারজাত করা হচ্ছিল।
টানা চার ঘণ্টার অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দুই বিক্রেতা ভাইকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করেন। তবে সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা এই লঘু শাস্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, যেখানে কৃষকের স্বপ্ন এবং মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, সেখানে সামান্য জরিমানা এই অপরাধ রোধে যথেষ্ট নয়।
কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের ভেজাল সার ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরতা দীর্ঘমেয়াদে নষ্ট হয়ে যায়। বোরো আবাদের এই মৌসুমে বাজার নকল সারে সয়লাব হয়ে যাওয়ায় সাধারণ কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
নকল সার বিক্রেতারা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।
সাতক্ষীরার এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, দেশের সার বাজারে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে যারা কৃষকদের সরলতার সুযোগ নিয়ে নকল পণ্য গছিয়ে দিচ্ছে।
0 Comments