জামায়াত- এনসিপি জোট: আসন বণ্টন নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা


২০২৬ সালের আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের ঘোষণা দিলেও আসন বণ্টন নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দল দুটি।

প্রাথমিকভাবে এনসিপিকে ৩০টি আসন দেওয়ার বিষয়ে দুই দলের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল। তবে বর্তমানে রাজনৈতিক কৌশল ও বাস্তবতার প্রেক্ষিতে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত এনসিপিকে মাত্র ১০টিরও কম আসন দেওয়া হতে পারে

জামায়াতে ইসলামী আসন ছাড়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু শর্তকে প্রাধান্য দিচ্ছে। জামায়াতের নেতাদের মতে, যেসব প্রার্থীর এলাকায় শক্তিশালী জনভিত্তি ও জনপ্রিয়তা আছে, কেবল তাদেরই চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হবে। এই কঠোর শর্তের কারণে এনসিপির অনেক প্রভাবশালী নেতা আসন্ন নির্বাচনের দৌড় থেকে বাদ পড়তে পারেন, যা দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে

মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই ও আপিল শুনানি চললেও এখনো জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। আসন বণ্টন নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় অনেক সম্ভাব্য প্রার্থী পুরোপুরি নির্বাচনী প্রচারে মনোযোগ দিতে পারছেন না। তবে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু আসনে অনানুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত ও এনসিপি প্রার্থীরা একে অপরকে সহযোগিতা করছেন বলে জানা গেছে

জামায়াত ও এনসিপি উভয় দলের নেতারাই জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আসন সংযোজন-বিয়োজন বা ত্যাগের প্রয়োজন হলে জামায়াত সেটি করতে প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে। নির্বাচনী কৌশল হিসেবে ২০ জানুয়ারির মধ্যে সব বিষয় চূড়ান্ত করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

নেতাদের মতে, চূড়ান্ত ঘোষণা আসার পর আসন বণ্টন নিয়ে এই বিভ্রান্তি কেটে যাবে এবং জোটের প্রার্থীরা এক হয়ে প্রচারণা শুরু করতে পারবেন

Post a Comment

0 Comments