আবাসিক ভবনের ভেতরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরী হচ্ছে দেশি-বিদেশি নামী ব্র্যান্ডের প্রসাধন সামগ্রী


আশুলিয়ার গাজীর চট এলাকায় একটি আবাসিক ভবনের ভেতরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দেশি-বিদেশি নামী ব্র্যান্ডের প্রসাধন সামগ্রী নকল করার এক চাঞ্চল্যকর চিত্র উঠে এসেছে।  সাধারণ আটা, পাম অয়েল এবং ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে তৈরি করা হচ্ছে শিশুদের লোশন থেকে শুরু করে বড়দের ব্যবহারের তেল ও ক্রিম।

অসাধু ব্যবসায়ীরা নামী ব্র্যান্ডের লোগো ও লেবেল ব্যবহার করে নিম্নমানের সামগ্রী বাজারজাত করছিল। এর মধ্যে রয়েছে, প্যারাশুট নারিকেল তেল: সাধারণ তেলের সাথে কেমিক্যাল মিশিয়ে এটি তৈরি করা হচ্ছিল। পন্ডস ক্রিম ও পাউডার: চন্দন মিশ্রিত ক্রিমের নামে আটা ও কেমিক্যালের মিশ্রণ ব্যবহার করা হচ্ছিল। জনসন বেবি লোশন: অত্যন্ত সংবেদনশীল শিশুদের এই পণ্যটিও তৈরি করা হচ্ছিল সাধারণ একটি রুমের ভেতর নোংরা পরিবেশেস্প্যানিশ অলিভ অয়েল: স্পেনের নামী ব্র্যান্ডের লেবেল লাগিয়ে আসলে সাধারণ পাম অয়েলে কয়েক ফোঁটা কেমিক্যাল মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছিল

ছোট ছোট ড্রামে বিভিন্ন ঝাঁজালো গন্ধযুক্ত কেমিক্যাল মজুদ করা হয়েছে। কোনো প্রকার ল্যাবরেটরি বা স্বাস্থ্যবিধি ছাড়াই এসব পণ্য তৈরি হচ্ছিল, যা ত্বকের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং এমনকি ক্যানসারের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে

স্থানীয় একটি মসজিদের মুসল্লিরা ওই বাসায় অপরিচিত লোকজনের আনাগোনা দেখে সন্দেহ করেন। একদিন তারা ধাওয়া করে বাসার ভেতরে প্রবেশ করলে এই নকল কারখানার সন্ধান পান। তবে এলাকাবাসী আসার খবর পেয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়

ভবন মালিক জানান, প্রায় ৬-৭ মাস আগে 'ফ্যামিলি বাসা' হিসেবে থাকার কথা বলে তারা ঘরটি ভাড়া নিয়েছিল। মালিক সেখানে নিয়মিত না থাকায় এই অবৈধ ব্যবসার বিষয়টি তার অগোচরে ছিল বলে দাবি করেন

এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই চক্রের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সাধারণ মানুষ ২০০-৩০০ টাকা দিয়ে এই পণ্যগুলো কিনে শুধু আর্থিকভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, বরং মাথার চুল পড়া, ইনফেকশনসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছে। প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে এই অসাধু ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments