মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বর্তমানে ইরান যেন এক ফুটন্ত আগ্নেয়গিরি। দেশটির অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং বিদেশি শক্তির ক্রমাগত হুমকির মুখে ইরান এখন আর কেবল আক্রান্ত হওয়ার পর পাল্টা জবাব দেওয়ার নীতিতে সীমাবদ্ধ নেই। বরং শত্রুর যেকোনো সম্ভাব্য আগ্রাসন রুখতে ‘আগাম হামলার’ (Pre-emptive Strike) চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।
ইরানিয়ান ডিফেন্স কাউন্সিল এবং দেশটির উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শত্রুর আক্রমণের জন্য তারা আর অপেক্ষা করবেন না। যদি দেশের নিরাপত্তা বা ভৌগোলিক অখণ্ডতার ওপর কোনো দৃশ্যমান হুমকির লক্ষণ দেখা যায়, তবে ইরান নিজেই আগে আক্রমণ করবে। সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, "ইরানের দিকে যারা আক্রমণের হাত বাড়িয়ে দেবে, তাদের হাত কেটে ফেলা হবে"।
২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল সরাসরি সংঘাতের পর গঠিত হওয়া ‘ইরানিয়ান ডিফেন্স কাউন্সিল’ স্পষ্ট করেছে যে, ইরানের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা তাদের কাছে একটি ‘রেডলাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা। ইসরায়েলের যেকোনো সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতার বিপরীতে ইরান নিজেই আগেভাগে আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ইসরায়েল যদি ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করে বা অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চালায়, তবে তার "দাঁতভাঙা জবাব" দেওয়া হবে বলে কাউন্সিলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ইরানে বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি এবং মুদ্রার মানের চরম পতনের কারণে দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই বিক্ষোভের নেপথ্যে পশ্চিমাদের ইন্ধন রয়েছে। ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী তুলে নেওয়ার পর ইরানের উত্তেজনার পারদ আরও চড়েছে। তেহরান আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্র একইভাবে ইরানেও কোনো ঝটিকা অভিযান বা হামলা চালাতে পারে।
সম্প্রতি নিজেদের মিজাইল ইউনিট বা ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটের সক্ষমতা যাচাই করতে বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালিয়েছে ইরান। রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত দৈনিক ‘তেহরান টাইমস’ এবং সামরিক কর্মকর্তাদের বর্তমান অবস্থান বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরান এখন যেকোনো মুহূর্তে আগাম আত্মরক্ষামূলক হামলায় যেতে পারে।
0 Comments