অজগাঁয়ের কিশোরের বিশ্বজয়: গ্রামে বসেই আধুনিক মিসাইল ও মিলিটারি ড্রোন তৈরি করছেন দেবসারথী
January 08, 2026
দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় নতুন এক আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছেন নীলফামারী জেলার এক প্রত্যন্ত গ্রামের ক্ষুদে বিজ্ঞানী দেবসারথী তীর্থ। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই তিনি উদ্ভাবন করার চেষ্টা চালাচ্ছেন আধুনিক মিসাইল এবং শক্তিশালী মিলিটারি সাবমেরিন। শুধু তাই নয়, তার তৈরি ড্রোন ইতিমধ্যে আকাশপথে ২০ মিনিট ওড়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা ড্রোনটি দিয়ে সীমান্ত নজরদারি এবং বোমা নিক্ষেপ সম্ভব বলে দাবি এই কিশোর উদ্ভাবকের।
নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার ব্রাক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী দেবসারথী। ২০১৮ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে বাবার অনুপ্রেরণায় বিজ্ঞান মেলায় অংশগ্রহণ করে তার এই জয়যাত্রা শুরু হয়। করোনাকালীন অবসরে নিজ উদ্যোগে প্রোগ্রামিং শিখে তিনি নিজেকে প্রযুক্তির দুনিয়ায় আরও দক্ষ করে তোলেন। তীর্থের উদ্ভাবিত প্রকল্পের মূল ভিত্তি হলো তিনটি বিষয়: মিলিটারি সাবমেরিন, মাল্টিফাংশনাল ড্রোন এবং আধুনিক রকেট বা মিসাইল।
তীর্থে উদ্ভাবনগুলো কেবল স্থানীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। তার ঝুলিতে রয়েছে ৩০টিরও বেশি সনদ ও সম্মাননা। 'মালয়েশিয়া ইনভেনশন ইনোভেশন ক্রিয়েটিভিটি অ্যাসোসিয়েশন' আয়োজিত ইনোভেশন ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬-এ তিনি বাংলাদেশের হয়ে স্বর্ণপদক এবং বেস্ট প্রজেক্ট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। দেশব্যাপী ৪০৫টি দলকে পেছনে ফেলে তিনি এবার বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
অদম্য মেধাবী তীর্থের এই পথ চলা মোটেও মসৃণ নয়। বাবা একটি সাধারণ চাকরি করায় উদ্ভাবনী কাজের খরচ যোগানো তার পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপযুক্ত আর্থিক সহযোগিতার অভাবে এর আগে তিনি মালয়েশিয়ায় একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেননি।
দেবসারথী বলেন, "যদি কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আমাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে, তবে আমি আত্মবিশ্বাসী যে আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকেও বাংলাদেশের জন্য স্বর্ণপদক ছিনিয়ে আনতে পারবো"।
তীর্থে শিক্ষকরা তার এই অনন্য প্রতিভায় গর্বিত। তারা জানান, তীর্থ সবসময় পড়াশোনার পাশাপাশি বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তাভাবনা নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং তার মূল লক্ষ্য হলো এমন কিছু করা যাতে তার দেশ উপকৃত হয়। যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে তীর্থের এই উদ্ভাবনগুলো আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাবে এবং দেশের প্রতিরক্ষায় বড় অবদান রাখবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
0 Comments