নতুন পাঠ্যবইয়ে জুলাই অভ্যুত্থান, বাকশাল ও জিয়াউর রহমানের ঘোষণা


কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এতদিন ধরে ভুল ও সুবিধাবাদী ইতিহাস পড়ানো হলেও, ২০২৬ সালের নতুন পাঠ্যবইয়ে আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB)। নতুন শিক্ষাক্রমে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত ও রক্তাক্ত অধ্যায়—২০২৪ সালের 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান' অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস, কবিতা, প্রবন্ধ ও গদ্যের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে:

কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ, ছাত্রলীগ-যুবলীগের হামলা এবং পুলিশের গুলিতে রংপুরের আবু সাঈদের নিহত হওয়ার ঘটনা বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।

২০০৯ সালের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল করা, গুম, খুন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগগুলো স্থান পেয়েছে। এছাড়া ৫ আগস্ট কারফিউ উপেক্ষা করে ছাত্রজনতার রাজপথে নেমে আসা এবং শেখ হাসিনার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাপ্রবাহ বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।

দীর্ঘদিন পাঠ্যবই থেকে বাদ পড়ে থাকা মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার ইতিহাস পুনরায় যুক্ত করা হয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণীর 'বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়' বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং ২৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে তা পুনঃঘোষণা করেন

স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের বাকশাল প্রতিষ্ঠা, একদলীয় শাসন এবং এর পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নতুন বইয়ে নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গণআন্দোলনের ধারাবাহিকতাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে

NCTB জানিয়েছে, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে মাধ্যমিকের সকল শিক্ষার্থীর হাতে এই নতুন পাঠ্যবইগুলো পৌঁছে দেওয়া হবে। আন্দোলন সংশ্লিষ্ট নেতৃত্বরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে নতুন প্রজন্ম সত্য ইতিহাস জানার এবং আড়াল করা রাষ্ট্রীয় দমনপীড়নের বাস্তবতা বোঝার সুযোগ পাবে

Post a Comment

0 Comments