ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কমান্ডো অভিযানের মাধ্যমে তুলে আনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তার লক্ষ্য খনিজ সমৃদ্ধ ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিশাল বরফাচ্ছাদিত ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ড। ডেনমার্কের মালিকানাধীন এই দ্বীপটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত করার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ২৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ২১ লাখ বর্গ কিলোমিটার এলাকাটি উত্তর আমেরিকার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। ট্রাম্পের মতে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন। তিনি দ্বীপটির কৌশলগত অবস্থান এবং সেখানে থাকা মূল্যবান খনিজ সম্পদের গুরুত্ব উল্লেখ করে একে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার দাবি জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে 'অবাস্তব কল্পনা' বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সরকার।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ডেনিশ রাজ্যের কোনো অংশ দখল বা কেনা-বেচার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই। তিনি ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেটো সদস্য হওয়ার বিষয়টিও মনে করিয়ে দেন।
গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেমস ফ্রেডরিক নিলসনও ট্রাম্পের এই ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন।এই বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহকারী স্টিফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কিন পতাকার রঙে গ্রিনল্যান্ডের মানচিত্র পোস্ট করে 'শীঘ্রই আসছে' লিখে বার্তা দেন। এর জবাবে ডেনিশ রাষ্ট্রদূত আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন।
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক কমান্ডো অভিযানের পর আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, গ্রিনল্যান্ড দখলেও কি যুক্তরাষ্ট্র শক্তি প্রয়োগ করবে? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের বর্তমান আগ্রাসী মেজাজ কোনো কূটনৈতিক শিষ্টাচারের তোয়াক্কা করছে না। তবে গ্রিনল্যান্ডে বসবাসকারী প্রায় ৫৭,০০০ মানুষের সিংহভাগই ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চাইলেও যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার তীব্র বিরোধী।
ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে, যা এই ইস্যুটিকে একটি বড় আন্তর্জাতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
0 Comments