ইরানকে ভেনেজুয়েলা ভাবলে বড় ভুল করবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুকে কড়া সতর্কবার্তা
January 06, 2026
ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক মার্কিন সামরিক অভিযান এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনার পর ওয়াশিংটনের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে থাকলেও ইরান ইস্যুতে বড় ধরনের হিসাবের ভুল হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকেও কারাকাসের মতো সহজে কাবু করার পরিকল্পনা করছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে।
গত শুক্রবার ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান যদি তাদের অর্থনৈতিক সংকটজনিত বিক্ষোভ সামলাতে না পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। এর আগে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প জানান, ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি বা ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার বাড়ালে আরও বড় ধরনের হামলা চালানো হবে।
২০২৫ সালের জুন মাসে ইসরায়েলি বাহিনীর টানা ১২ দিনের বোমা বর্ষণে ইরানে ১০০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়। যুক্তরাষ্ট্র সেই হামলায় সরাসরি যোগ দিয়ে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানে।
পশ্চিমা গোয়েন্দা তথ্যে স্বীকার করা হয়েছে যে, এত বড় হামলার পরও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বড়জোর কয়েক মাস পিছিয়েছে। বিপরীতে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
হামলার ফলে ইরানের সরকার পতনের যে আশা করা হয়েছিল, তা বুমেরাং হয়ে দেখা দিয়েছে। সাধারণ জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে যাওয়ার বদলে আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
বিশ্লেষকরা ১৯৮০-র দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলছেন, রাসায়নিক হামলা ও চরম অবরোধের মুখেও ইরান টিকে ছিল। বর্তমানে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই সামরিক হুমকিকে 'নব্য সাম্রাজ্যবাদী দাদাগিরি' হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রত্যাখ্যান করেছে গ্লোবাল সাউথ ও মুসলিম বিশ্বের দেশগুলো।
ইরান কোনো সাধারণ দেশ নয়; এটি একটি আঞ্চলিক শক্তি। ট্রাম্প যদি ইরানকে ভেনেজুয়েলার মতো দুর্বল ভাবেন, তবে সেই উস্কানি যে আগুন জ্বালাবে তা কেবল ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এর ক্ষতি হবে অপূরণীয়।
0 Comments