মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নির্বাচনী মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলাকালীন এক স্বতন্ত্র প্রার্থীকে হেনস্তা ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
মানিকগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ আতাউর রহমান আতা অভিযোগ করেছেন যে, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলাকালীন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
আতাউর রহমান আতা জানান, তিনি যখন সম্মেলন কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসছিলেন, তখন বিএনপি প্রার্থী আফরোজা খান রিতার অনুসারী একদল নেতাকর্মী তার ওপর হামলা চালায়। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে আফরোজা খান রিতার পিএস সোহেল, জাদু নাসিরউদ্দিন জাদু এবং অ্যাডভোকেট উজ্জ্বলের নাম উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, তারা তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে যা একজন প্রার্থীর জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং অবমাননাকর।
প্রার্থী আতাউর রহমান আরও অভিযোগ করেন যে, তার মনোনয়নপত্রটি ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরের জটিলতা দেখিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাতিল করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, যেখানে অন্যান্যদের ক্ষেত্রে ত্রুটি থাকলেও আপিল করার সুযোগ বা শিথিলতা দেখানো হয়েছে, সেখানে তার ক্ষেত্রে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
ডিসি অফিসের মতো একটি উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে প্রার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আতাউর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকের কক্ষে যদি প্রার্থীর নিরাপত্তা না থাকে, তবে সাধারণ জনগণের কাছে ভোট চাইতে গেলে নিরাপত্তা কে দেবে? তিনি তাৎক্ষণিকভাবে রিটার্নিং অফিসারের কাছে বিচার চাইলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন।
এই ঘটনাকে তিনি 'আওয়ামী লীগ আমলের সন্ত্রাসী কায়দার চেয়েও ভয়াবহ' বলে মন্তব্য করেছেন এবং বর্তমান প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
আতাউর রহমান আতা ইতিমধ্যে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে মানিকগঞ্জে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে না এবং বর্তমান রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রত্যাহার দাবি করেন তিনি।
0 Comments