ঢাবি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা: আ.লীগপন্থী শিক্ষকদের আটক করে পুলিশে দেওয়ার চেষ্টা


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নেতা এবি জোবায়ের (সমাজসেবা সম্পাদক) এর নেতৃত্বে, আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষকে  আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষক ঘটনাস্থল থেকে গাড়িতে করে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

এবি জোবায়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অতীতের আন্দোলনে 'খুনি সহযোগী' হিসেবে ভূমিকা রাখার অভিযোগ তোলেন।

তিনি আরও জানান, যে শিক্ষকদের আটক করার চেষ্টা করা হয়েছিল, তারা হলেন অধ্যাপক আ.ক.ম জামাল, অধ্যাপক জিনাত-উদ-দাউলা (যিনি শিক্ষক ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা) এবং মাকসুদ কামাল।

শিক্ষকরা 'খুনি হাসিনা'র সহযোগী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪, ১৫ ও ১৭ জুলাইয়ের 'হত্যাযজ্ঞে' এবং 'গুলি চালানোর' ঘটনায় জড়িত ছিলেন, যখন মাকসুদ কামালের নেতৃত্বে ক্যাম্পাস 'রণক্ষেত্রে' পরিণত হয়েছিল।

এই শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের দ্বারা 'বয়কটকৃত' এবং তাদের ক্লাস বা পরীক্ষায় অংশ নেওয়া হয় না। অর্থাৎ তারা ডিপার্টমেন্টে 'অবাঞ্ছিত'। অধ্যাপক আ.ক.ম জামালকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, আন্দোলনের সময় তিনি 'এই সব রাজাকারের বাচ্চাদেরকে ব্রাশার দেয়া হোক'—এমন মন্তব্য করেছিলেন। এছাড়া, এই শিক্ষকরা 'হাসিনার পাচাটা বিশ্বস্ত কুকুর ছিল' এবং নির্বাচন ছাড়াই হাসিনাকে আরও পাঁচ বছর ক্ষমতায় রাখার পক্ষে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়। তারা খবর পেয়েছিলেন যে 'এই কুলাঙ্গার  শিক্ষক'রা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন। "আমরা চেয়েছিলাম শিক্ষার্থীরা তাদেরকে ধরে থানায় সোপর্দ করতে"। কিন্তু তারা নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গেই 'আগে থেকে প্রস্তুত করা' গাড়িতে উঠে দ্রুত পালিয়ে যান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "সময় ধরতে পারি নাই"।


এবি জোবায়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরও তৎপর হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত এমন 'খুনি সহযোগী' এবং 'চিহ্নিত খুনি'দের ক্যাম্পাসে 'অ্যানার্কি তৈরি করার' সুযোগ না দেওয়া।

Post a Comment

0 Comments