মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি গৃহকর্মী আয়েশা গ্রেপ্তার

মা-মেয়ের ঘাতক আয়েশা

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চাঞ্চল্যকর মা ও মেয়ে হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়েশাকে অবশেষে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার বরিশালের ঝালকাঠি জেলার নলসিটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার স্বামীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আয়েশা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। আয়েশা জানান, তিনি স্বর্ণালংকার ও টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভুক্তভোগী লায়লা আফরোজ তাকে দেখে ফেলেন এবং বাধা দেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আয়েশা লায়লা আফরোজকে ছুরিকাঘাত করেন। মা পড়ে যাওয়ার পর তাকে বাঁচাতে আসলে মেয়ে নাফিসাকেও হত্যা করেন আয়েশা।

পুলিশ জানায়, নিহত মায়ের শরীরে প্রায় ৩০টি এবং মেয়ের শরীরে ৬টি গভীর ক্ষতের চিহ্ন ছিল। পুলিশ কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে অত্যন্ত বিভৎস হত্যাকাণ্ড বলে উল্লেখ করেছেন। এজাহার সূত্রে জানা যায়, পালিয়ে যাওয়ার সময় আয়েশা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, স্বর্ণালঙ্কার এবং নগদ টাকা নিয়ে যান, যা তিনি জিজ্ঞাসাবাদেও স্বীকার করেছেন।

গত সোমবার সকালে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি ১৪ তলা ভবনের সপ্তমতলায় মা লায়লা 

আফরোজ ও মেয়ে নাফিসাল আউয়াল বিন্তে আজিজাকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।হত্যাকাণ্ডের সময় নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী, শিক্ষক আজম-ও-আজিজুল ইসলাম, কর্মস্থলে ছিলেন। তখন বাসায় শুধু মা-মেয়ে এবং ঘটনার মাত্র চারদিন আগে কাজে আসা গৃহকর্মী আয়েশা উপস্থিত ছিলেন।

বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়েশা ওইদিন সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নিহত মেয়ের স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বাসা থেকে রিকশায় করে চলে যান]।

জোড়া হত্যার ঘটনায় সোমবার রাতেই নিহত লায়লা আফরোজের স্বামী আজম-ও-আজিজুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানায় একটি মামলা (এজাহার) দায়ের করেন। মঙ্গলবার নাটরে মা ও মেয়ের দাফন সম্পন্ন হয়।

Post a Comment

0 Comments