জামায়াত-ই-ইসলামীর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কৌশল এবং আদর্শিক অবস্থান নিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান জামায়াতের অভ্যন্তরে থাকা কিছু 'অস্পষ্টতা' তুলে ধরেন, যার মধ্যে অমুসলিম প্রার্থী মনোনয়ন, নারী নেত্রীদের ভূমিকা এবং শরিয়া আইন সংক্রান্ত দ্বৈত অবস্থান প্রধান।
তিনি উল্লেখ করেন যে জামায়াতের সংবিধান অনুযায়ী দলের 'রুকন' (কেন্দ্রীয় সদস্য) হতে হলে কেবল মুসলিম হলেই হবে না, একজন 'প্র্যাকটিসিং ভালো মুসলিম' হতে হবে এবং সকল ফরজ সহ গুরুত্বপূর্ণ নিয়মাবলী পালন ও গুনাহ থেকে মুক্ত থাকতে হবে। যে দল একজন 'সাচ্চা মুসলমান' ছাড়া কাউকে সদস্য করে না, সেই দল একজন অমুসলিমকে এমপির মতো পদে মনোনয়ন দিচ্ছে। এমনকি এই মনোনয়নের জন্য একজন গুরুত্বপূর্ণ ও সাচ্চা মুসলিম সদস্যকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এই বিষয়টিকে তিনি 'অস্পষ্টতা' হিসেবে চিহ্নিত করেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান প্রশ্ন করেন যে,, নারীদের এভাবে রাস্তায় বেরিয়ে কাজ করা কি ইসলাম সমর্থন করে? যদি করে, তাহলে এতদিন কেন অনুমতি দেওয়া হয়নি? আর যদি না করে, তাহলে এখন কেন দেওয়া হচ্ছে? এই ধরনের কাজের ধারাবাহিকতা নিয়ে তিনি দলের অবস্থানের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন ।
তিনি বলেন, অনেক অপরাধ বাংলাদেশের দণ্ডবিধিতে থাকলেও শরিয়াহতে শাস্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভিন্নতা রয়েছে। আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থার মতো অনেক কিছুই শরিয়া ব্যবস্থার সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যা পরিবর্তন করা হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন যে, শরিয়াহভিত্তিক শাসন থাকা প্রায় প্রতিটি দেশেই মেয়েদের জন্য একটি নির্দিষ্ট ড্রেস কোড (নেকাব বা হিজাব) বাধ্যতামূলক।
এর বিপরীতে, জামায়াতের আমির বলেছেন যে, নারীরা যা খুশি তাই পড়তে পারবেন, পোশাকের ব্যাপারে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
ডা. জাহেদ উর রহমান, জামায়াতের এই বক্তব্যগুলো ইসলামী শাসন কায়েমের চেয়ে ভোটের কৌশল হিসেবে মনে হয়।
0 Comments