অবশেষে সাক্ষাত মিলল ইমরান খানের : সামরিক প্রধানের বিরুদ্ধে 'ক্ষমতা দখলের' অভিযোগ আনলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী


প্রায় এক মাস ধরে উত্তেজনা ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) কর্মীদের ব্যাপক বিক্ষোভের পর অবশেষে আদিয়ালা কারাগারে বন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেলেন তার পরিবারের সদস্যরা। মঙ্গলবার ইমরান খানের বোন ডা. উজমা খানম তার সঙ্গে প্রায় ২০ মিনিট ধরে সাক্ষাৎ করেন।

এই সাক্ষাতের পর কারাগারের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন উজমা খানম। তিনি জানান, ইমরান খান শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলেও তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। তার অভিযোগ, কারাগারে তাকে দিনের বেশিরভাগ সময় সেলের মধ্যে আটকে রাখা হয়, বাইরে যাওয়ার সুযোগ খুবই কম এবং বাইরের কারও সঙ্গে যোগাযোগের কোনো সুযোগ দেওয়া হয় না।

ডা. উজমা খানমের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বর্তমান অবস্থার জন্য ইমরান খান সরাসরি পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আসিম মুনিরকে দায়ী করেছেন। ইমরান খানের মতে, সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ নিজের হাতে নিয়ে জেনারেল মুনির সংবিধানকে নতুন করে লিখছেন এবং নিজে, অন্যান্য সামরিক প্রধান ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারীর জন্য আজীবন দায়মুক্তি নিশ্চিত করেছেন। ইমরান খান বিশ্বাস করেন, ক্ষমতার এমন কেন্দ্রীকরণের বিরোধিতা করার কারণেই তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইমরান খানের স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তা নিয়ে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। পরিবার অভিযোগ করেছিল যে দীর্ঘ দিন ধরে তাদের দেখা করতে না দেওয়ায় এবং কারা কর্তৃপক্ষের ইচ্ছাকৃত তথ্য গোপনের কারণে তার জীবিত থাকা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়। এমনকি তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককেও কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এসব কঠোর নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

অন্যদিকে, পিটিআইয়ের সিনেটর খুররম জিসান দাবি করেছেন যে ইমরান খানকে জোর করে দেশ ত্যাগে বাধ্য করার জন্য বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। তার মতে, ইমরানের বিপুল জনপ্ৰিয়তাই সরকারের আতঙ্কের মূল কারণ। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, ইমরান খান কারাগার থেকেই দেশে অরাজকতা ছড়ানোর চেষ্টা করছেন।

পরিবারের অভিযোগ, ইমরান খানের মৌলিক সুযোগ-সুবিধাগুলিও সীমিত রাখা হচ্ছে। তার একমাত্র দাবি— বই পড়ার সুযোগ এবং সন্তানদের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি— সেই সুযোগটুকুও সীমিত রাখা হচ্ছে বলে তারা জানান।

Post a Comment

0 Comments