জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে চরম বিকৃতি ঘটাচ্ছে বলে মনে করছেন তিনি। দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, ১৯৭১ সালে বুদ্ধিজীবীদের পাকিস্তানিরা বা তাদের সহযোগীরা হত্যা করেনি, বরং ভারতীয়রা বা আওয়ামী লীগ এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
আশরাফ কায়সার বলেন, অতীতে জামায়াত নেতারা ১৯৭১-এর ভূমিকার জন্য শর্তসাপেক্ষে ক্ষমা চাওয়ার কথা বললেও, বর্তমানে তাদের সুর পাল্টে গেছে। তারা এক ধরনের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের চেষ্টা করছে এবং মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সাথে যুক্ত অনেক তরুণের ইসলামিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকার সুযোগ নিয়ে জামায়াত ও তাদের ছাত্র সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিজেদের সাংগঠনিক বিস্তার ঘটাচ্ছে।
তার মতে, জামায়াত যদি মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক চেতনাকে অবজ্ঞা করে এবং ইতিহাস বিকৃতি চালায়, তবে সেই সুযোগে পুরনো ফ্যাসিবাদী শক্তি (আওয়ামী লীগ) পুনরায় মাঠে ফিরে আসার নৈতিক গ্রাউন্ড পেয়ে যেতে পারে। তারা বলতে শুরু করবে যে, দেশে মুক্তিযুদ্ধকে হেয় করা হচ্ছে।
আশরাফ কায়সার উদ্বেগের সাথে বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক চেতনা বর্তমানে দুই দিক থেকে আক্রান্ত হচ্ছে। দেশের ভেতরে জামায়াতে ইসলামীর মতো দলের মাধ্যমে এবং বাইরে ভারতের নরেন্দ্র মোদী সরকারের মাধ্যমে, যারা ১৬ই ডিসেম্বরকে কেবল ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে।
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোনো আপস করা বা ইতিহাসের বিকৃতি ঘটানোর সুযোগ নেই। জুলাই বিপ্লবের ঐক্য সুদৃঢ় রাখতে এবং পুরনো ফ্যাসিবাদী শক্তির প্রত্যাবর্তন রুখতে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও চেতনা বজায় রাখা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।
0 Comments