ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া ও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা: শঙ্কায় ইসরাইল


পরমাণু ইস্যুতে আমেরিকা ও ইসরাইলের সাথে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার মাঝে ইরান তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি ইরানের বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া এবং মহাকাশে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, তেহরান, ইসফাহান, মাশহাদ এবং খরামাবাদসহ দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে ক্ষেপণাস্ত্র মহড়া চালানো হয়েছে। তেহরান এই মহড়াকে সম্পূর্ণ 'আত্মরক্ষামূলক' বলে দাবি করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইসরাইল ও আমেরিকার সম্ভাব্য যেকোনো হামলা মোকাবিলায় ইরান যে প্রস্তুত, এই মহড়ার মাধ্যমে তারা সেই বার্তাই দিচ্ছে।

ইসরাইলের আশঙ্কা, ইরান এই মহড়া বা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার আড়ালে মূলত কোনো আকস্মিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তেলাবিবের ধারণা, গত জুনের যুদ্ধে ইরানের যেসব অস্ত্রকারখানা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস হয়েছিল, তা তারা ইতোমধ্যে মেরামত করে ফেলেছে।

ইসরাইলি কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে ব্রিফ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরান এই মুহূর্তে বড় কোনো হামলার পরিকল্পনা করছে এমন সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত তারা পাচ্ছেন না।

রাশিয়ার সহায়তায় ইরান মহাকাশে তিনটি নতুন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করতে যাচ্ছে। ইরান এটিকে কৃষি ও পরিবেশ রক্ষার কাজে ব্যবহারের দাবি করলেও পশ্চিমারা বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখছে। তাদের মতে, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রযুক্তি এবং দূরপাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইল তৈরির প্রযুক্তি প্রায় একই।

মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম, ইরান যদি পারমাণবিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করে তবে সরাসরি হামলার কথা বললেও, ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধের চেয়ে শান্তি আলোচনায় বেশি আগ্রহী বলে গুঞ্জন রয়েছে।

সব মিলিয়ে ইরান যেমন একদিকে সামরিক শক্তি প্রদর্শন করছে, অন্যদিকে ইসরাইল ও পশ্চিমারা ইরানের এই অগ্রগতিকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে।

Post a Comment

0 Comments