পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার দীর্ঘ ১৬ বছর পর একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে রাজনীতিবিদ, সাবেক সামরিক কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, র্যাব এবং বিডিআর কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন স্তরের মোট ৪৯ জনকে দায়ী করা হয়েছে। এই তালিকায় বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমসহ পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তার নামও এসেছে।
বিডিআর হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় নাম আসার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের তিন আইনজীবী— অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুস সামাদ, অ্যাডভোকেট শাহিন হোসেন এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আতিকুর রহমান।
গত ৪ ডিসেম্বর আইজিপিকে অপসারণ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আইনি নোটিশটি পাঠানো হয়। নোটিশে পুলিশ প্রধানকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, জনপ্রশাসন সচিব এবং আইন সচিবকেও এই নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
আইনজীবীরা সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছেন যে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণে ব্যর্থ হলে তারা আইন ও আদালতের দ্বারস্থ হতে বাধ্য হবেন।
বিডিআর হত্যাকাণ্ড তদন্তের ওই স্পর্শকাতর প্রতিবেদনে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য আইজিপির নাম আসার পর প্রশাসনের ভেতরে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। প্রতিবেদনে আইজিপির বিরুদ্ধে নেতিবাচক তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে; বিশেষ করে, পুলিশের বিশেষ শাখা বা এসবিতে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা এবং বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সক্রিয় থাকার অভিযোগ উঠেছে বাহারুল আলমের বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে আইজিপির ভাগ্যে কী হতে পারে, তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে।
0 Comments