পাওনা বেতন আনতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার মাদ্রাসার শিক্ষিকা


বকেয়া বেতন আনতে গিয়ে সহকর্মীর দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষিকা। এই অভিযোগে তিনি একই মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে আশুলিয়ার তালটেক এলাকার একটি বন্ধ থাকা মহিলা মাদ্রাসায়।

ভুক্তভোগী শিক্ষিকা আশুলিয়ার তালটেক এলাকার দারুণ নাজাত মহিলা মাদ্রাসায় সাত মাস চাকরি করার পর গত মাসে অন্য একটি মাদ্রাসায় যোগ দেন। তার অভিযোগ, দারুন নাজাত মহিলা মাদ্রাসার শিক্ষক নুরুল ইসলাম তার পাওনা বেতন পরিশোধের কথা বলে তাকে দেখা করতে বলেন। গত ৬ তারিখ সন্ধ্যায় তিনি বেতন আনতে গেলে নুরুল ইসলাম কৌশল করে তাকে পার্শ্ববর্তী বন্ধ থাকা দারুল ফালা ফাতেমাতুজ জোহরা মহিলা মাদ্রাসায় নিয়ে যান।

শিক্ষিকার বক্তব্য অনুযায়ী, মাদ্রাসার দোতলায় নিয়ে যাওয়ার পর আরেক শিক্ষক তাজুল ইসলাম দরজা-জানালা বন্ধ করে তালা লাগিয়ে দেন। এরপর সেখানে প্রায় তিন ঘণ্টা আটকে রেখে তাকে ধর্ষণ করেন নুরুল ইসলাম]। ভুক্তভোগী কান্নাকাটি করে তাকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলেও অভিযুক্ত তাতে কর্ণপাত করেননি।

ধর্ষণের পর অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম ঘটনাটি কাউকে জানালে মেরে ফেলার হুমকিও দেন। এক পর্যায়ে তিনি কাউকে না জানানোর প্রতিজ্ঞা করে সেখান থেকে কৌশলে বেরিয়ে আসেন। বাড়ি ফিরে অতিরিক্ত অসুস্থতা ও রক্তপাতের কারণে তিনি পরিবারকে পুরো ঘটনাটি জানান।

ভুক্তভোগীর বাবা প্রশাসনের কাছে অভিযুক্ত নুরুল ইসলামের সর্বোচ্চ শাস্তি, এমনকি ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বলেন, তিনি অভিযুক্তকে বাবার মতো বিশ্বাস করতেন এবং এমন ক্ষতির জন্য তিনি তার কঠিন শাস্তি কামনা করেন।

পরিবারের সহায়তায় শিক্ষিকা আশুলিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ভুক্তভোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ডিএমসিএইচ) পাঠানো হয়, যেখানে তিনি চারদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরও জানান, মামলা রুজুর পর দ্রুত অপরাধীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আসামিকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত আছে।

প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত ঘটনার তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা ও তার পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

Post a Comment

0 Comments