১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ৩ বার কাঁপল বাংলাদেশ, বিশেষজ্ঞদের মতে 'ভয়াবহ' ভূমিকম্পের পূর্বাভাস


দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ—ইন্দোনেশিয়া, ভুটান, ভারত ও পাকিস্তানে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের ঘটনার ধারাবাহিকতায়, বাংলাদেশেও মাত্র ১৩ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনবার মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়েছে। স্বল্প সময়ে এমন ঘন ঘন কম্পন দেশজুড়ে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে, এবং বিশেষজ্ঞরা এটিকে ভবিষ্যতে একটি বড় মাত্রার ভূমিকম্পের পূর্বাভাস হিসেবে দেখছেন।

ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, ২৬ নভেম্বর মধ্যরাত ৩টার পর থেকে ২৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে এই কম্পনগুলো অনুভূত হয়। রিক্টার স্কেলে এগুলোর মাত্রা ছিল মাঝারি বা হালকা।

  • প্রথম কম্পন (৪.০ মাত্রা): গত ২৬ নভেম্বর মধ্যরাত ৩টা ২৯ মিনিটে প্রথম ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। রিক্টার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.০। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল টেকনাফ থেকে ১১৮ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে। ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC) জানিয়েছে, এটি মাটির ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছিল। টেকনাফ অঞ্চলে এটি সামান্য অনুভূত হওয়ায় বেশিরভাগ মানুষ টের পাননি।
  • দ্বিতীয় কম্পন (৩.৪ মাত্রা): প্রথম কম্পনের প্রায় এক মিনিট পর, রাত ৩টা ৩০ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডে সিলেটে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, ৩.৪ মাত্রার এই কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের মণিপুরে।
  • তৃতীয় কম্পন (৩.৬ মাত্রা): এর পর ২৭ নভেম্বর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে ৩.৬ মাত্রার তৃতীয় কম্পনটি রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হয়।

এই সাম্প্রতিক কম্পনগুলির পূর্বে গত ২১ নভেম্বর সকালে রিক্টার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে রাজধানীসহ সারাদেশ কেঁপে উঠেছিল। এই ঘটনায় শিশুসহ মোট ১০ জনের নিহতের পাশাপাশি ৬ শতাধিক মানুষ আহত হন।

একাধিক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন যে বাংলাদেশের চারপাশের সক্রিয় ফল্টগুলি—বিশেষ করে ডাইকি ফল্ট, শিলং ফ্লেটো অঞ্চল এবং ইন্দু-বার্মা সাবডাকশন জোন—এলাকায় বহু বছর ধরে বিপুল পরিমাণ শক্তি জমে আছে। এই সঞ্চিত শক্তি যেকোনো সময় ৭.৫ থেকে ৮.০ মাত্রার মতো প্রবল ভূমিকম্পে রূপ নিতে পারে।

সাম্প্রতিক ছোট ও মাঝারি কম্পনগুলো ভূগর্ভে আসন্ন ভূমিকম্পের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, ছোট কম্পনগুলি ইঙ্গিত দেয় যে জমে থাকা শক্তির 'লকড অবস্থা' আস্তে আস্তে খুলছে, যা ভবিষ্যতে বা নিকট ভবিষ্যতে সাড়ে সাত থেকে আট মাত্রার একটি বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাজধানী ঢাকায় ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে প্রায় ৪০ শতাংশ ভবন ধসে পড়তে পারে। এমন দুর্যোগে আপতিত হলে বহু মানুষের প্রাণহানি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Post a Comment

0 Comments