পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খানকে কারাগারে হত্যা করা হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সমগ্র পাকিস্তান উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই গুজবের জেরে রাস্তায় নেমে আসে ইমরান খানের রাজনৈতিক দল পিটিআই-এর হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকলে পাকিস্তানি পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠিচার্জ করে এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
জানা গেছে, গত তিন সপ্তাহ ধরে কারাবন্দী ইমরান খানের সঙ্গে কেউ দেখা করতে পারছেন না এবং কারাগারের অভ্যন্তরে তার শারীরিক অবস্থা কেমন, সে সম্পর্কেও কোনো খবর নেই। এই তথ্যের ঘাটতি ও অনিশ্চয়তার মধ্যেই তাকে হত্যার গুজব দ্রুত সমগ্র পাকিস্তানে ছড়িয়ে পড়ে। ভারতীয় ও আফগান সোশ্যাল মিডিয়া সাইটগুলো এই গুজবে ইন্ধন জোগাতে থাকে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গুজবের মধ্যে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের সামনে ইমরান খানের তিন বোন বিক্ষোভ শুরু করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন পিটিআই সমর্থকরাও। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনেও এই বিক্ষোভের কথা বলা হয়েছে।
ইমরান খানের বোনরা—নরিন খান, আলেমা খান এবং উজমা খান—অভিযোগ করেছেন যে ভাইয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চাইতে গেলে পুলিশ তাদের এবং পিটিআই সমর্থকদের ওপর বর্বর হামলা চালিয়েছে।
তারা দাবি করেন, গত তিন সপ্তাহেও তাদের ভাইকে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ কারণে তারা শান্তিপূর্ণভাবে কারাগারের সামনে অবস্থান নিলেও পুলিশ আকস্মিকভাবে লাঠি পেটা শুরু করে। পিটিআই দলের পক্ষ থেকেও ইমরান খানের বোন ও সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে পুলিশের এই আকস্মিক হামলার স্বাধীন তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
২০২৩ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দী রয়েছেন ইমরান খান। তার মৃত্যুর গুজবের মধ্যে পরিবারের সদস্যদের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগে বিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে। একই সাথে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। তথ্যের অপর্যাপ্ততার কারণে এই গুজব এখনো বেড়েই চলেছে এবং তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য এখনো জানা যায়নি।
0 Comments