আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল অবমাননার অভিযোগ: বিএনপি নেতা ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা


বিএনপি নেতা এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি-১) অবমাননার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে
। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে দেওয়া তাঁর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রসিকিউশন এই অভিযোগ এনেছে, যা আদালত অবমাননা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে

টকশোতে ফজলুর রহমান ট্রাইব্যুনালের বিচার নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, "আমি এই আদালত মানি না এই আদালতের রায় মানি না"। তিনি আরও বলেন যে, "এখানে শেখ হাসিনার বিচার হতে পারে না"।

একই সঙ্গে, প্রসিকিউশনকে কটূক্তি করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই বক্তব্যগুলি আইসিটির এখতিয়ারকে চ্যালেঞ্জ করে, অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে অপমানজনক মন্তব্য করে এবং আদালতের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করে অবমাননার জন্ম দিয়েছে।


ট্রাইব্যুনাল ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করে অভিযোগগুলোকে গুরুতর বলে বিবেচনা করেছে। এই বিষয়ে শুনানির তারিখ ৩০ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী সম্ভাব্য সাজা:

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ১১৪ ধারা অনুসারে, আদালত অবমাননার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ফজলুর রহমানের নিম্নলিখিত সাজা হতে পারে:

  • সরল কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ এক বছর
  • জরিমানা, সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা
  • অথবা, উভয় দণ্ডই হতে পারে।

এর আগে, অনুরূপ একটি মামলায় শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা এই আইনের সীমার মধ্যে পড়ে। সাজা ঘোষণার পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার সুযোগ রয়েছে ।

ট্রাইব্যুনালের বর্তমান প্রেক্ষাপট:

প্রতিবেদনে ট্রাইব্যুনালের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরা হয়েছে। মূলত ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচারের জন্য ২০১০ সালে শেখ হাসিনা সরকার আইসিটি গঠন করেছিল। তবে, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা দেশ ছাড়লে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাঁর শাসনামলের অধিকার লঙ্ঘন, দুর্নীতি এবং অন্যান্য অভিযোগের বিচারের জন্য এই ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করতে শুরু করে। ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা এই অবমাননা মামলাটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক সাজা হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

Post a Comment

0 Comments