ফিলিস্তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে যখন তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাব সুবিয়ান্ত গাজায় ২০,০০০ সেনা মোতায়েনের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। পৃথিবীর বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে এবং দেশের অভ্যন্তরে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার এই সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি হলো ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাস হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি শান্তি পরিকল্পনা। চীন ও রাশিয়া ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকলেও, নিরাপত্তা পরিষদের বাকি ১৩টি দেশের সমর্থনে প্রস্তাবটি গৃহীত হয়।
মার্কিন সমর্থিত এই জোটকে 'ইন্টারন্যাশনাল স্টেবিলিটি ফোর্স' (ISF) বা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে, যার অংশ হিসেবেই ইন্দোনেশিয়ার সেনারা গাজায় পা রাখতে চলেছে।
ইন্দোনেশিয়ার ডিফেন্স চিফ আগুস সুবিয়ন্ত নিশ্চিত করেছেন যে ২০,০০০ সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে। এই বাহিনীতে একজন তিন তারকা জেনারেলের নেতৃত্বে তিনটি শক্তিশালী ব্যাটালিয়ন থাকবে। তাদের সঙ্গে থাকবে হেলিকপ্টার এবং সি-১৩০ হারকিউলিস পরিবহন বিমান। এছাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, প্রকৌশল ও ত্রাণ সহায়তার জন্য দুটি বিশাল নৌবাহিনীর হাসপাতাল জাহাজও পাঠানো হবে। মূল বাহিনী নামার আগে পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য একটি অগ্রবর্তী দল (রিকনেসেস) পাঠানো হবে।
জাতিসংঘের এই প্রস্তাবনায় সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়টি হলো—এই আন্তর্জাতিক বাহিনী ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা গোষ্ঠীসহ অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে স্থায়ীভাবে নিরস্ত্রীকরণ করবে।
এ নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত ডিনো পাটি দাজাল (Dino Patti Djalal) স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইন্দোনেশিয়ার সেনারা যেন কোনোভাবেই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীকে নিরস্ত্রীকরণ করতে না যায়।
ইন্দোনেশিয়ান উলেমা কাউন্সিল (MUI)-ও একই সুরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া যে ফিলিস্তিনকে আজীবন সমর্থন দিয়েছে, এবার হয়তো সেই ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীর বিপক্ষেই তাদের সেনাদের অস্ত্র ধরতে হতে পারে।
এদিকে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলো ইতিমধ্যেই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে যারা তাদের অস্ত্র কেড়ে নিতে আসবে, তাদের তারা শত্রু হিসেবেই গণ্য করবে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশ্লেষকরা ইন্দোনেশিয়ার এই বিশাল ঝুঁকি নেওয়ার পেছনে ভূরাজনীতির কারণ দেখছেন। তাদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে জাকার্তা ওয়াশিংটনের 'গুডবুকে' নাম লেখাতে চায়। বিনিময়ে ইন্দোনেশিয়া হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বিশেষ শুল্ক চুক্তি বা বড় ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা আদায় করে নেবে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, জাকার্তা এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের পক্ষই নিয়ে ফেলল কিনা।
0 Comments