বাউলের নিরাপত্তা, সরকারের ব্যর্থতা এবং নির্বাচন পরিচালনায় বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে আবু হেনা রাজ্জাকী


সম্প্রতি দেশের বাউল শিল্পীদের কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক ও এর পরবর্তী সহিংস ঘটনাপ্রবাহের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের সক্ষমতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছেন দর্শক ও আলোচকরা।

একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে আবু হেনা রাজ্জাকী বলেন যে, যদি সরকার দেশের একজন বাউল শিল্পী (আবুল সরকার) এবং এর প্রতিবাদকারীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে এত বড় একটি জাতীয় নির্বাচন তারা কিভাবে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করবে?

একজন বাউল শিল্পী (আবুল সরকার) তাঁর গানের মাধ্যমে ধর্মীয় সৃষ্টিতত্ত্ব ও দার্শনিক বিষয়ে প্রশ্ন ও উত্তরমূলক বক্তব্য রাখায় বিতর্ক তৈরি হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদকারীদের উপর হামলা ও তাদের গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে।

এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেন আবু হেনা রাজ্জাকী। তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তার প্রতি অসম্মান করা হয়েছে এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে গ্রেফতার করা বা আক্রমণ করা হচ্ছে, অথচ যেখানে সৃষ্টিকর্তা (আল্লাহ) নিজেই তাঁর সৃষ্টিকে আলো-বাতাস থেকে বঞ্চিত করছেন না (নিরাকার হওয়া সত্ত্বেও), সেখানে মানুষের এই ধরনের অতি-প্রতিক্রিয়া সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করছে।

আবু হেনা রাজ্জাকী প্রশ্ন তোলেন যে, সরকার বাউলের বিতর্কিত বক্তব্যকে এত গুরুত্ব দিচ্ছে কেন, যেখানে রাজনৈতিক হত্যা, বিদ্যুতের দাবিতে কানসাটে মানুষের মৃত্যু, বিনা বিচারে বা আইনবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, কিংবা আয়না ঘরে মৃত্যুর মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো উপেক্ষিত হচ্ছে? তিনি বলেন: "জীবে প্রেম করে যেজন, সেজন সেবে ঈশ্বর" – ইসলাম যেখানে শান্তির ধর্ম, সেখানে জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে ধর্মীয় আবেগকে কেন এত বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

আলোচনার মূল ফোকাস ছিল নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা। বর্তমান পরিস্থিতিতে একটি ‘ভালো নির্বাচনের কোনো সুযোগ নাই’ বলে মন্তব্য করেন।

  • রাজনৈতিক অস্থিরতা: সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির সাহেবের নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করা, যা নির্বাচনকে একটি 'জেনোসাইড' বা হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে (জেনোসাইড নির্বাচন)। পাশাপাশি নির্বাচনের পরে জাতীয় সরকার গঠনের প্রস্তাব ইঙ্গিত দেয় যে নির্বাচন কোনো সুষ্ঠু প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে না, বরং ক্ষমতা ভাগাভাগির একটি ব্যবস্থা হবে।
  • প্রশাসনিক নাজুকতা: মাত্র এক মাসের ব্যবধানে একজন ডিআইজি এবং একজন মেজর জেনারেলের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয় যে দেশের প্রশাসনিক অবস্থা 'খুবই নাজুক'।
  • প্রতিষ্ঠানগুলোর পতন: আলোচকের মতে, বর্তমানে সরকারের পাশাপাশি দেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানই দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সহায়ক নয়।

আবু হেনা রাজ্জাকী জোর দিয়ে বলেন, যখন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং ক্ষমতাশীল দল দেশের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, তখন নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভাগ্য নির্ধারণের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার অঙ্গীকার প্রশ্নবিদ্ধ।

Post a Comment

0 Comments