পাবনা-৪ আসনে জামায়াতে ইসলামী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে বৃহস্পতিবার এক ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষ ও গোলাগুলির জেরে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এই ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় পুরো বিষয়টি নিয়ে তোলপাড় চলছে, যেখানে এক যুবককে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি চালাতে দেখা যায়।
পাবনা-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল এবং বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় দলের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া অন্তত দশটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় ।
সংঘর্ষের ঘটনার পর ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রতিপক্ষের লোকজনকে লক্ষ্য করে একজন যুবক গুলি করছেন। যুবকটির নাম তুষার মন্ডল বলে জানা যায়।
বিএনপি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে থাকা ওই ব্যক্তিকে জামায়াতের কর্মী বলে দাবি করেছে। তাদের মতে, তুষার মন্ডল হলেন জামায়াত প্রার্থী আবু তালেব মন্ডলের ভাতিজা মামুন মন্ডলের অন্যতম সহযোগী ও একজন জামায়াত কর্মী। বিএনপি গভীর রাতেই বিবৃতি দিয়ে এই অভিযোগ করে এবং জামায়াত 'দোষারোপের রাজনীতি' করছে বলে অভিযোগ তোলে। বিএনপি এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য তুষার মন্ডলকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, জেলা জামায়াতের আমীর ও প্রার্থী আবু তালেব মন্ডল দাবি করেছেন, তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ভাইরাল ভিডিওতে থাকা যুবকটির সাথে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "না না এর কোনো সত্যতা নাই বানাচ্ছে এসব কথা।" তার দাবি, প্রচার অভিযানে অতর্কিতভাবে তাদের রাস্তা অবরোধ করে মারধর করা হয়েছে এবং গুলি চালিয়েছে বিরোধীরাই।
বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কোরআন শরিফ ব্যবহার করে ভোটারদের 'দাঁড়ি পাল্লায়' ভোট দেওয়ার কথা বলাকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রথমে সামান্য বাদানুবাদ শুরু হয়।
0 Comments