মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের চরডুমুরিয়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে হওয়া সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে আরিফ মীর নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইমরান নামে আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন, যাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ নভেম্বর, ২০২৫) ভোরে কুয়াশা ভেদ করে মুহুর্মুহু বোমা বিস্ফোরণ ও ধোঁয়ার মধ্যে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। দীর্ঘদিন ধরে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতিক মল্লিক ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওহিত মোল্লার অনুসারী শাহ কামাল গ্রুপের সঙ্গে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আওলাদ হোসেনের অনুসারী আরিফ গ্রুপের বিরোধ চলে আসছিল।
সাম্প্রতিক এক সংঘর্ষের পর এলাকাছাড়া ছিল শাহ কামাল গ্রুপের লোকজন। তারা এলাকায় ফিরছে—এমন খবর পেয়ে প্রতিপক্ষ আরিফ গ্রুপ অতর্কিত হামলা চালায়, যার ফলে দু'পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের সময় আরিফ মীর ও ইমরান গুলিবিদ্ধ হন। তাদের মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক আরিফ মীরকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের মতে, তার শরীরে বুলেটের আঘাতের চিহ্ন ছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় ইমরানকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত আরিফ মীরের এক স্বজন অভিযোগ করে বলেন, "প্রায় সাড়ে চারটা-পাঁচটার (ভোর) দিকে ওরা গ্রামে অতর্কিতভাবে ঘুমন্ত মানুষের উপর হামলা করেছে"।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনীও টহল দিচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা সহ গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে [০১:৪৪]।
এর আগে, গত ২ নভেম্বর এই দুই পক্ষের সংঘর্ষে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ওহিত মোল্লার অনুসারী বেহেরকান্দি গ্রামের তুহিন দেওয়ান নিহত হয়েছিলেন।
0 Comments