মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলসীমায় আবারও তীব্র সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। গত বুধবার ভোরে মার্কিন বিমানবাহিনী আকস্মিকভাবে দক্ষিণ ইরানের প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র ও কৌশলগত সামরিক অবকাঠামোগুলো লক্ষ্য করে তীব্র বিমান হামলা চালায়। ইরানের কৌশলগত এনার্জি হাব আসালুয়ে, হরমুজগান প্রদেশের সেরিক ও মিনাব শহর এবং বন্দর আব্বাস বিমান ঘাঁটির কাছাকাছি এলাকায় একের পর এক মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এমনকি রাজধানী তেহরানের পশ্চিমাঞ্চলেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
মার্কিন বাহিনীর এই আকস্মিক হামলার জবাবে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় বৃহস্পতিবার ভোরে নজিরবিহীন পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান। মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত অন্তত ১৮টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে দেশটি। জর্ডান, কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত প্রধান মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর ওপর একযোগে এই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়।
ইরানি সামরিক সূত্রের দাবি, এই অপারেশনে মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যন্ত মূল্যবান ফাইটার জেট এবং নজরদারি প্রযুক্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মার্কিন বাহিনীর দুটি বড় আকারের 'P-8 মেরিটাইম নজরদারি বিমান' টেকঅফের মুহূর্ত থেকেই ইরানি ইন্টেলিজেন্সের রাডারে ছিল। বিমান দুটি যখন বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমান ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল সালেম বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করে, ঠিক সেই সুনির্দিষ্ট মুহূর্তেই ইরানের নিখুঁত নিশানাভেদী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনে রানওয়েতেই সেগুলো ধ্বংস করে।
আইআরজিসি (IRGC) কমান্ড সেন্টার জানিয়েছে, তারা দুই দফায় অপারেশন পরিচালনা করে কুয়েত ও বাহরাইনের ঘাঁটিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এ ছাড়া জর্ডানের আল আজরাক বিমান ঘাঁটি ও এর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ লক্ষ্য করে ১২টি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়া হয়, যার ফলে সেখানে মোতায়েন থাকা বিপুল সংখ্যক মার্কিন F-35, F-15 এবং F-16 যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। পাশাপশি বাহরাইন ভিত্তিক মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দফতরেও হামলা চালিয়েছে ইরান।
হামলা শেষ হওয়ার পরপরই ইরানের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি জারি করে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট 'হরমুজ প্রণালী' সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উসকানি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে এই মুহূর্ত থেকে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও বাণিজ্যিক জাহাজসহ যেকোনো ধরনের জলযান চলাচল নিষিদ্ধ করা হলো। কোনো জাহাজ এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার চেষ্টা করলে তাতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো সুপার পাওয়ারের ১৮টি স্থাপনায় ইরানের এই সমন্বিত ও নিখুঁত হামলা প্রমাণ করে যে, তারা মার্কিন বাহিনীর প্রতিটি গোপন মুভমেন্ট ট্র্যাক করার মতো উন্নত গোয়েন্দা ও সামরিক সক্ষমতা অর্জন করেছে। তীব্র লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ইরান ধীরে ধীরে নিজেদের অন্যতম পরাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
0 Comments