মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে বিরাজ করছে চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধের দামামা। পারস্য উপসাগরের শান্ত জলসীমা রাতারাতি রূপ নিয়েছে রক্তাক্ত যুদ্ধক্ষেত্রে। হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন বাহিনীর হামলার পর এবার সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলার জেরে প্রতিবেশী কুয়েত এবং বাহরাইনে ব্যাপক আতঙ্ক ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ফুটেজে দেখা গেছে, গভীর রাতে কুয়েত সিটির আকাশ হঠাৎ করেই তীব্র সাইরেনের শব্দে কেঁপে ওঠে। ঘুমন্ত শহরটিতে মুহূর্তের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে শুরু করেন। ইরানের পক্ষ থেকে সরাসরি দাবি করা হয়েছে যে, তারা কুয়েত এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে এই বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে। বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর অবস্থিত হওয়ায় পুরো এলাকা জুড়েই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
হামলার অংশ হিসেবে কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করেও ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে বিমানবন্দরের রানওয়ে এবং টার্মিনালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কুয়েতের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কিছু ইরানি ড্রোন এবং মিসাইল মাঝ আকাশেই ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবে বিমানবন্দরে হওয়া ড্রোন বিস্ফোরণে দুর্ভাগ্যবশত অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, এই আক্রমণ ছিল আমেরিকার সাম্প্রতিক সামরিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের সরাসরি মোক্ষম জবাব। মাত্র কয়েকদিন আগেই হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন বাহিনী 'হেল ফায়ার' ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছিল। এছাড়া ইরানের কেশম দ্বীপে অবস্থিত সামরিক যোগাযোগ কেন্দ্রগুলোতেও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) তীব্র বিমান হামলা চালায়, যার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান এই পাল্টা আঘাত হেনেছে।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের ছোড়া বেশিরভাগ ব্যালস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে। তারা কেশম দ্বীপে চালানো মার্কিন হামলাটিকে সম্পূর্ণ 'আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
সামরিক সংঘাতের সমান্তরালে দুই দেশের মধ্যে এক অদ্ভুত কূটনৈতিক খেলা চলছে। হোয়াইট হাউস থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, তেহরানের সাথে আমেরিকার যুদ্ধবিরোতির আলোচনা এবং যোগাযোগ প্রতিদিন অব্যাহত রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে। আলোচনার অচল অবস্থার খবরকে তিনি গণমাধ্যমে 'ফেক নিউজ' বা ভুয়া খবর বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
তবে তেহরানের সুর সম্পূর্ণ ভিন্ন। ইরানি সংবাদ মাধ্যমের তথ্যমতে, দুই পক্ষের মধ্যকার এই পরোক্ষ আলোচনা আপাতত পুরোপুরি থমকে গেছে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, শুধু মুখের কথায় কাজ হবে না; লেবানন থেকে শুরু করে হরমুজ প্রণালী—সব জায়গায় একযোগে মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।
0 Comments