২০২৪ সালের মার্চ মাসে নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে আবু আমিনের বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কমলা খাতুন ও শিশু সন্তান নোমান রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। নিখোঁজের দীর্ঘ দুই বছর পর, ১৫ ঘণ্টা মাটি খুঁড়ে বাড়ির একটি পুকুর থেকে তাদের লাশের অবশিষ্টাংশ ও হাড়গোড় উদ্ধার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মা ও ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত সৎ ভাইয়েরাই থানায় একটি নিখোঁজ জিডি (সাধারণ ডায়েরি) দায়ের করেছিল। তবে কমলা খাতুনের বোন এটি মেনে নিতে না পেরে আদালতে অপহরণের পিটিশন মামলা দায়ের করেন, যার তদন্তভার পরবর্তীতে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর সিআইডি কমলা খাতুনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ঢাকার সবুজবাগ থেকে সচল অবস্থায় উদ্ধার করে এবং জানতে পারে ফোনটি কমলা খাতুনের সৎ ছেলে সাইফুল ইসলাম রাজু বিক্রি করেছিল।
সিআইডি জানায়, কমলা খাতুনের স্বামী আবু আমিন মারা যাওয়ার আগে স্ত্রী ও ছোট ছেলের নামে কোটি টাকা মূল্যের ৩০ শতাংশ জমি লিখে দিয়ে গিয়েছিলেন। এই সম্পত্তি গ্রাস করতে সৎ ছেলেরা জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেয়, কিন্তু কমলা খাতুন রাজি না হওয়ায় তারা এই নির্মম হত্যার পরিকল্পনা করে। পূর্বপরিকল্পনানুযায়ী তারা মা ও ছেলেকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। প্রমাণ লোপাটের জন্য লাশগুলো বিবস্ত্র করে পুকুরের নিচে আগে থেকে খুঁড়ে রাখা কবরে পুঁতে রাখে।
মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে সিআইডি ময়মনসিংহ থেকে সাইফুল ইসলাম রাজুকে এবং তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোনাইমুড়ি থেকে তার ভাই জিয়াউর রহমান সাগর ও ভাতিজা আশিকুর রহমান টিপুকে গ্রেপ্তার করে। লাশ উদ্ধারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে এই তিন অভিযুক্তই নির্মম এই জোড়া খুনের দায় স্বীকার করেছে।
0 Comments