মার্কিন সেনাদের সরাসরি যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ জানাল ইরান: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে স্থল অভিযানের শঙ্কা


মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখন এক চরম নাটকীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতির মুখে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে তেহরান। সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম 'প্রেস টিভি' একটি ৫৯ সেকেন্ডের বিশেষ ভিডিও প্রকাশ করে এই হুশিয়ারি বার্তা দিয়েছে।

প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, ইরানের স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডোরা পূর্ণ সামরিক সজ্জায় দুর্গম এলাকায় যুদ্ধের মহড়া দিচ্ছে। ভিডিওর ব্যাকগ্রাউন্ডে উত্তেজনাপূর্ণ মিউজিকের সাথে একটি কড়া বার্তা ভেসে ওঠে— "কাছে এসো, আমরা তোমাদের জন্যই অপেক্ষা করছি।" ভিডিওতে বিশাল মিসাইল লঞ্চার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্যও দেখানো হয়েছে, যা মূলত মার্কিন বাহিনীকে মোকাবিলা করার দৃঢ় প্রস্তুতির ইঙ্গিত।

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন ইরানের ভেতরে সীমিত আকারে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিড জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে যুদ্ধের ময়দানে আরও বেশি বিকল্প রাখার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগন কয়েক সপ্তাহের জন্য একটি স্থল অভিযানের পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। এটি পূর্ণমাত্রার আক্রমণ না হয়ে বিশেষ বাহিনী ও পদাতিক সেনাদের মাধ্যমে একটি লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান হতে পারে।

ইতিমধ্যে ৩,৫০০ মেরিন ও সেনা নিয়ে বিশাল মার্কিন যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস ট্রিপলই' (USS Tripoli) মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে এবং ইরানের কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি ঘাঁটির সবগুলোই ধ্বংস হয়ে গেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে একদিকে তেহরানের সাথে কূটনৈতিক আলোচনার কথা বলা হলেও, অন্যদিকে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন।

তবে সমর বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ইরানের কঠিন ভৌগোলিক অবস্থান এবং দেশটির সেনাবাহিনীর কঠোর প্রতিরোধের মুখে স্থল অভিযান চালানো যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মোটেও সহজ হবে না।

Post a Comment

0 Comments