ভারত মহাসাগরে মার্কিন জাহাজে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে যুদ্ধের উত্তেজনা


পারস্য উপসাগরের সীমা ছাড়িয়ে এবার ভারত মহাসাগরে মার্কিন নৌবহরে শক্তিশালী হামলার দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। আইআরজিসি-র মতে, এই অভিযানে তারা 'গাদর ৩৮০' ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং 'তালাইয়ে' কৌশলগত ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করেছে, যা সরাসরি মার্কিন ডেস্ট্রয়ারে আঘাত হানে

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত মহাসাগরের মতো দূরবর্তী অঞ্চলে মার্কিন নৌবহরকে লক্ষ্যবস্তু করা ইরানের একটি বড় ধরনের কৌশলগত সাফল্য।

গাদর ৩৮০ এটি একটি মাঝারি পাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইল যার পাল্লা প্রায় ২০০০ কিলোমিটার। তালাইয়ে এটি ১০০০ কিলোমিটার পাল্লার একটি স্মার্ট ক্রুজ মিসাইল, যা উড্ডয়নরত অবস্থায় লক্ষ্য পরিবর্তন করতে সক্ষম

আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলার সময় মার্কিন ডেস্ট্রয়ারটি একটি জ্বালানি ট্যাংকার থেকে তেল নিচ্ছিল। এই দুর্বল মুহূর্তে আঘাত হানা আমেরিকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া 'ট্রু প্রমিস ফোর' নামক এই অভিযানে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী 'ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন'-কেও লক্ষ্যবস্তু করার দাবি করেছে ইরান

ইরানের এই অভিযান শুধু একটি জাহাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইসরাইলের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে

ভারত মহাসাগর বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হওয়ায় এখানে অস্থিরতা সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে, যা তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করবে

ইসরাইল ও আমেরিকার যৌথ হামলার জবাবে ইরান বর্তমানে তিন স্তরের পাল্টা কৌশল নিয়েছে:

১. সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা।

২. আঞ্চলিক মার্কিন মিত্রদের ঘাঁটি ও স্বার্থে আঘাত।

৩. দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সক্ষমতা প্রদর্শন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধ এখন আর কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই; বরং সমুদ্র, আকাশ ও মরুভূমি পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে

Post a Comment

0 Comments