ইরানি ড্রোন ও মিসাইল হামলায় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিপর্যয়: অন্ধ হয়ে পড়েছে ওয়াশিংটন


ইরানের অভাবনীয় এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের মার্কিন সামরিক আধিপত্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। সৌদি আরবের সুরক্ষিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে চালানো এই অভিযানে আমেরিকার গর্ব হিসেবে পরিচিত অত্যাধুনিক ই-থ্রি সেন্ট্রি (E-3 Sentry) রাডার বিমান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেন্টাগনের নীতি নির্ধারকদের মতে, এই একটি আঘাতেই পুরো পশ্চিম এশিয়ায় ওয়াশিংটনের নজরদারি ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চালানো এই অভিযানটি ছিল অনেকটা প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের মতো। একের পর এক ইরানি ব্যালাস্টিক মিসাইল এবং আত্মঘাতী ড্রোন যখন সৌদি আরবের আকাশসীমায় প্রবেশ করে, তখন মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা 'প্যাট্রিয়ট' (Patriot) কার্যত দিশাহারা হয়ে পড়ে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘাঁটিতে থাকা বেশ কয়েকটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং অত্যন্ত বিরল ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ই-থ্রি সেন্ট্রি বিমানটি অকেজো হয়ে পড়েছে।

গত তিন সপ্তাহের যুদ্ধে আমেরিকা প্রায় ১.৪ থেকে ২.৯ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে বলে পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে।

সাবেক মার্কিন বিমান বাহিনী কর্মকর্তা জন ভেনেবেল এই পরিস্থিতিকে 'চরম বিপর্যয়' বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার মতে, আমেরিকার কাছে বর্তমানে সচল থাকা ১৬টি ই-থ্রি সেন্ট্রি বিমানের অর্ধেকই রক্ষণাবেক্ষণের কারণে উড্ডয়নে অক্ষম। এমন অবস্থায় একটি বিমান হারানো রণকৌশলে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে। এর ফলে ওই অঞ্চলে কোনো মিসাইল বা ড্রোনের গতিবিধি শনাক্ত করা আমেরিকার জন্য এখন প্রায় অসম্ভব।

ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এই হামলা ছিল ইরানি বেসামরিক শিল্পখাতে মার্কিন ও জায়নবাদী আগ্রাসনের এক দাঁতভাঙ্গা জবাব। ইরান প্রমাণ করে দিয়েছে যে, তাদের স্বল্পমূল্যের ড্রোন দিয়ে আমেরিকার বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে চুরমার করা সম্ভব। এমনকি ইরানের সিরাজ ও ফার্স প্রদেশের আকাশে আমেরিকার দামী এমকিউ-নাইন (MQ-9) ড্রোন এবং একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবিও করা হয়েছে।

ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীও এই অভিযানে সংহতি প্রকাশ করেছে। তারা জানিয়েছে, ফিলিস্তিন, লেবানন এবং ইরাকের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সমর্থনে লোহিত সাগর এবং দক্ষিণ ইসরাইলে তাদের ক্রুজ মিসাইল হামলা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে পাসা উল্টে গেছে। সস্তা ড্রোন আর নিখুঁত মিসাইল প্রযুক্তির মাধ্যমে ইরান প্রমাণ করেছে যে, কেবল প্রযুক্তির দম্ভ দিয়ে সবসময় যুদ্ধ জয় করা যায় না। ওয়াশিংটন ও তেল আবিব এখন একের পর এক কৌশলগত হারের সম্মুখীন হচ্ছে।

Post a Comment

0 Comments