মধ্যপ্রাচ্যে বারুদের গন্ধ আর অনিশ্চয়তার মাঝে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন হোয়াইট হাউসের অন্দরে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। প্রবল সামরিক অভিযান সত্ত্বেও ইরানের বর্তমান শাসন ব্যবস্থাকে উপড়ে ফেলা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছে খোদ মার্কিন গোয়েন্দারা।
ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের একটি গোপনীয় রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুও ইরানের বর্তমান শাসন কাঠামোর পতন ঘটাতে পারবে না। গোয়েন্দারা বলছেন, ইরানের নেতৃত্ব এমনভাবে সাজানো হয়েছে যে, কেউ নিহত হলেও মুহূর্তেই বিকল্প নেতৃত্ব দায়িত্ব বুঝে নেবে। ফলে ওয়াশিংটনের 'নেতৃত্ব শূন্য করার পরিকল্পনা' এক দুঃসাধ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানকে পরাজিত শক্তি হিসেবে ঘোষণা করে চূড়ান্ত আঘাতের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তখন হোয়াইট হাউস তাদের 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র লক্ষ্য স্পষ্ট করেছে:
- মূল লক্ষ্য: ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ইরানি বাহিনীকে পঙ্গু করে দেওয়া।
- নেতৃত্ব নিয়ে হস্তক্ষেপ: ট্রাম্প সরাসরি ঘোষণা করেছেন যে, প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর ছেলে মোস্তফা খামেনীকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। তিনি ভেনেজুয়েলার কায়দায় ইরানে নিজের পছন্দের নেতা বসাতে চান।
ট্রাম্পের এই আধিপত্যকামী মন্তব্যের পর ইরান থেকে ধেয়ে এসেছে কঠোর জবাব। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো বিদেশি শক্তির রক্তচক্ষু ইরানের নেতৃত্ব ঠিক করার অধিকার রাখে না; বরং দেশটির ভাগ্য নির্ধারণ করবে কেবল তার জনতা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই বিমানবন্দরে ইরানের মিসাইল হামলার গুঞ্জন এবং মার্কিন 'থাড' (THAAD) রাডার সিস্টেম ধ্বংস হওয়ার খবরে বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ বেজেশকিয়ানের নমনীয় অবস্থানের পরও ট্রাম্পের 'নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের' দাবি পরিস্থিতিকে খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে।
এই সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মন্তব্য এবং রাশিয়ার তেল নিয়ে ট্রাম্পের সহযোগীদের হুঁশিয়ারি। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতেও এর প্রভাব এখন স্পষ্ট। যুদ্ধের এই ভয়াবহ দাবানলের মাঝে এখন বড় প্রশ্ন—ট্রাম্প কি সত্যিই ইরানের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন, নাকি মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের আশঙ্কাই সত্যি হতে চলেছে?
0 Comments